নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ত্রিপুরায় করোনা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে৷ ফলে, দীর্ঘ ১৮ মাস বাড়িতে কাটানোর পর এখন কচিকাঁচারাও বিদ্যালয়ে যাবে৷ ত্রিপুরা সরকার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে৷ বুনিয়াদী শিক্ষা দফতর আগামী ১৩ সেপ্ঢেম্বর থেকে প্রথম ও পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷ এক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি পত্রের অবশ্যই প্রয়োজন হবে৷ ফলে, এখন শুধুই নার্সারী শাখা বাদে বিদ্যালয়ে সমস্ত শ্রেণীতে পঠন-পাঠন শুরু যাচ্ছে৷ কারণ, গত ২৫ আগস্ট থেকে বিদ্যালয়গুলিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর পঠন-পাঠন শুরু হয়ে গেছে৷
প্রসঙ্গত, করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে হওয়ায় রাজ্য দুযর্োগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বিদ্যালয়গুলিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গত ২৫ আগস্ট থেকে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে৷ এক্ষেত্রে পঠন-পাঠনে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের অভাব হলে দুই ধাপে ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ জারি হয়েছিল৷ এদিকে গত ২৫ আগস্ট থেকে সমস্ত মহাবিদ্যালয়গুলিতেও পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে৷ ইতিপূর্বে, তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছিল৷ কিন্ত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রছাত্রী দীর্ঘ ১৮ মাস বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি৷
মূলত, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় ভীষণ ব্যাঘাত ঘটছে, তাই রাজ্য দুযর্োগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বিদ্যালয়গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠন-পাঠন চালু করেছিল বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর৷ এক্ষেত্রে কোভিড বিধি অবশ্যই প্রাধান্য দিয়েই চলছে পঠন-পাঠন৷ টিটিএএডিসি সহ রাজ্যের সরকারী, সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত এবং বেসরকারী ও মাদ্রাসার জন্য ওই আদেশ প্রযোজ্য হয়েছে৷ এখন, বুনিয়াদী স্তরেও বিদ্যালয়গুলিতে পঠন-পাঠন শুরু হচ্ছে৷
আজ বুনিয়াদী শিক্ষা দফতর এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, আগামী ১৩ সেপ্ঢেম্বর থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ কিন্ত, অভিভাবকের অনুমতি পত্র অবশ্যই লাগবে৷ দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে ছাত্রছাত্রীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে৷ বিশেষ করে বর্ণ পরিচয় এবং সংখ্যা জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ তাই ওই ঘাটতি পূরণে নতুন দীশার অধীন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷
বুনিয়াদী শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বিদ্যালয় শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই দুর্বল, ড্রপ আউট এবং বিদ্যালয় থেকে দুরে রয়েছে এমন ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ তাদের চিহ্ণিত করে আলাদাভাবে যত্ন নিতে হবে৷ এছাড়া, কোভিড বিধি অবশ্যই পালন করতে হবে৷
সিখা দফতরের আদেশ, প্রধান শিক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের বসার জায়গা, রুটিন এবং পাঠ্যক্রম সুনিশ্চিত করতে হবে৷ তেমনি, ক্লাস টেস্ট ও সাপ্তাহিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে৷ এছাড়া, মিড-ডে-মিলের আয়োজন অবশ্যই থাকতে হবে৷ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের জন্যও মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ বিদ্যালয়ে স্যানিটাইজার, থার্মাল স্কেনিং এবং হ্যান্ড ওয়াশ বন্দোবস্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

