নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জুন: তিপ্রা মথা দলের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আমবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা। দলের সক্রিয় বিধায়ক হয়েও তিনি তিপ্রাল্যান্ড রাজ্যের দাবি এবং তিপ্রা মথার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে চিত্তরঞ্জন দেববর্মা উল্লেখ করেন, তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা ও দলের শীর্ষ নেতা প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা একসময় “নো কম্প্রোমাইজ অন গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড: ওয়ান লাস্ট ফাইট” স্লোগান সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিধায়ক তাঁর পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিপ্রা মথা এবং তিপ্রাল্যান্ড স্টেট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে তিপ্রা মথার পক্ষে চেয়ারম্যান প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা এবং তিপ্রাল্যান্ড স্টেট পার্টির পক্ষে দলের সভাপতি অর্থাৎ তিনি নিজে চিত্তরঞ্জন দেববর্মা স্বাক্ষর করেছিলেন।
চিত্তরঞ্জন দেববর্মার দাবি, ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল— তিপ্রাল্যান্ড – এর দাবি থেকে কোনো অবস্থাতেই সরে আসা যাবে না এবং জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জোট বা সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই দাবিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থান আর বজায় নেই বলেই তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে সংশ্লিষ্ট চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কার্যত বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিপ্রা মথা জাতীয় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরকারে অংশীদার হয় এবং মন্ত্রিসভায়ও প্রতিনিধিত্ব পায়। এর ফলে পূর্ববর্তী চুক্তির রাজনৈতিক ভিত্তি আর কার্যকর নেই বলেই তিনি মত প্রকাশ করেন।
পোস্টে চিত্তরঞ্জন দেববর্মা আরও বলেন, বর্তমানে তিপ্রাল্যান্ড রাজ্যের দাবি নিয়ে আর কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলন চোখে পড়ছে না। বরং সমর্থকদের আশ্বস্ত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, যে আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবি, সেই দাবি এখন কার্যত গুরুত্ব হারিয়েছে।
বিধায়কের এই মন্তব্যকে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক তিপ্রা মথার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অসন্তোষ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে দলের একজন বর্তমান বিধায়কের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তবে চিত্তরঞ্জন দেববর্মার এই মন্তব্যের বিষয়ে তিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে কি না এবং এই মন্তব্যকে দল কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে, বিধায়কের এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্য একটি অংশের মতে এটি তিপ্রাল্যান্ড ইস্যুতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান মাত্র।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তিপ্রাল্যান্ড প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা তিপ্রা মথার একজন বিধায়কের এমন প্রকাশ্য মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।



















