ঢাকা, ২৫ জুলাই (আইএএনএস) : বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় রথযাত্রার শোভাযাত্রার রুট থেকে একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সময়মতো বিস্ফোরকটি শনাক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভিতরে বিস্ফোরকটি রাখা ছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবি জানান, সন্দেহজনক বস্তুটি উদ্ধার হওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
মতিঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মুক্তা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরকটি সেখানে রাখা হয়েছিল।
বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া আইইডিতে প্রায় ১.৫ কেজি সালফারের পাশাপাশি কাঁটাতারের টুকরো এবং ধারালো ধাতব খণ্ড ছিল। তাঁর দাবি, এটি একটি পাইপ বোমা ছিল। কেউ যদি ছাতার বোতাম টিপে সেটি খুলতে যেতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটত এবং ধাতব টুকরোগুলি চারদিকে ছিটকে গিয়ে আশপাশের মানুষের গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারত।
বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় ছিটকে আসা ধাতব খণ্ডে এক পথচারী আহত হন। আহত ৩৩ বছর বয়সি মিরাজ আহমেদের বাঁ চোখের নিচে আঘাত লাগে। তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মিরাজ জানান, তিনি একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং পরে ধাতব একটি টুকরো তাঁর মুখে এসে লাগে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক নেতা গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উঁচু শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণের প্রস্তাবদাতা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি অর্থপাচার মামলার সূত্রে পলাশবাড়ী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে আটক করা হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তাঁর মুক্তির দাবি তোলা হয়। সমাবেশে বক্তারা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, তাদের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং উপাসনালয় নির্মাণে বাধা না দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।



















