নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি ও বিপজ্জনক ভবন চিহ্নিত করে ভাঙার অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুরনিগম (এমসিডি)। বুধবার মেয়র প্রবেশ ওয়াহি জানিয়েছেন, শহরের জরাজীর্ণ ও অননুমোদিত নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে সাতজনের মৃত্যু হওয়ার পরই এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বুধবার ধসে পড়া ভবনটির পাশের একটি ভবনও ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়।
আইএএনএস-কে মেয়র প্রবেশ ওয়াহি জানান, দিল্লিতে বেআইনি ও বিপজ্জনক ভবন পরিদর্শনের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১,১১৮টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে পিজি (পেয়িং গেস্ট) আবাসন পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে ১,০৮০টি ভবনকে নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ৩৬টি ভবনে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বাকি ভবনগুলির পরিদর্শন ইঞ্জিনিয়ার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা করছেন।
তিনি আরও জানান, কোনও ভবনে অনুমোদনহীনভাবে পাঁচতলা নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি ভবনটি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দক্ষিণ জোনের এমসিডি চেয়ারম্যান ধরমবীর সিং জানান, সত্য নিকেতনে দুর্ঘটনার দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরের দিনই পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয় বলে তিনি জানান।
ধরমবীর সিং বলেন, রাজধানীর হোটেল, সুইমিং পুল, জিমসহ বিভিন্ন ধরনের ভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনগুলি কত বছরের পুরনো, তার মতো বিভিন্ন তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ এবং দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলি পর্যবেক্ষণ করছেন।
জরাজীর্ণ বা বিপজ্জনক ভবন সম্পর্কে এমসিডিকে অভিযোগ জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন ধরমবীর সিং। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি এলাকায় পুরনিগমের পক্ষে নিজে গিয়ে সবকিছু চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এমসিডির ওই আধিকারিক জানান, রাজধানীর সমস্ত ভবনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও ভবন মেরামতযোগ্য হলে সংস্কার করা হবে এবং মেরামত সম্ভব না হলে তা ভেঙে ফেলা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনও আধিকারিকের গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সত্য নিকেতনে ধসে পড়া ভবনের পাশের নির্মাণটি ভেঙে ফেলার পাশাপাশি রাজধানীর পরমপুরী, উত্তম নগর এবং লক্ষ্মী নগরের একটি পিজি আবাসন-সহ বিভিন্ন এলাকায় অননুমোদিত নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এমসিডি। নেহরু বিহার এলাকায় বেশ কয়েকটি লাইব্রেরিও সিল করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভবন ধসের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ বুধবার পিজি অপারেটর সুধাংশুকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ।
এর আগে আইএএনএস-এর সঙ্গে কথা বলার সময় সত্য নিকেতনের স্থানীয় বাসিন্দারা ‘পেয়িং গেস্ট মাফিয়া’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
(আইএএনএস)



















