শিলচর, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসমের কাছাড় জেলায় মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযানে ৬৮ কোটিরও বেশি টাকা মূল্যের অত্যন্ত আসক্তিকর মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনায় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বুধবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে অসম রাইফেলস, কাস্টমস দফতর এবং অসম পুলিশের যৌথ দল মঙ্গলবার রাতে কাছাড় জেলার লালপানির কাছে একটি ট্রাক আটক করে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চালক ওই এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সতর্ক যৌথ বাহিনী ট্রাকটি আটক করে। তল্লাশিতে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ কোটি টাকা। একটি টাটা ট্রাক এবং মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রাকের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কাস্টমস দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৮৫ সালের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাছাড় জেলার লক্ষ্মীপুর থানার অন্তর্গত শিবপুর এলাকায় অভিযান চালায় অসম পুলিশ। সেখানে একটি ট্রাক আটক করে তল্লাশি চালিয়ে গাড়িটির গোপন কুঠুরি থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটগুলির ওজন প্রায় ২৫ কেজি। এই ঘটনায় কাছাড় জেলার বাসিন্দা সাহির হুসেন চৌধুরী নামে এক মাদক পাচারকারী তথা ট্রাকচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অধিকারিকদের মতে, এই দুই অভিযানে আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলেছে। অসম রাইফেলস, কাস্টমস দফতর এবং অসম পুলিশের মধ্যে সমন্বয় ও নজরদারির ফলেই এই বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান সফল হয়েছে।
মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট, যা ইয়াবা বা ‘পার্টি’ ট্যাবলেট নামেও পরিচিত, সাধারণত মেথঅ্যামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি হয়। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই ট্যাবলেটের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ, নিষিদ্ধ এই মাদক মায়ানমার থেকে পাচার হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে দেশের অন্যত্র এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মায়ানমারের সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনও অরক্ষিত থাকায় মাদক পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে মণিপুর ও মিজোরাম মায়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত এবং ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর নৈকট্যের কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মাদক পাচারের করিডর হিসেবে উঠে এসেছে।
(আইএএনএস)























