ইটানগর, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ ঐতিহ্য বজায় রেখে অরুণাচলপ্রদেশ ও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানালেন উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন। বুধবার ইটানগরে অরুণাচলপ্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বিধানসভা পরিচালনায় সংলাপ, বিতর্ক ও আলোচনার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর বার্তা স্পষ্ট—“বিতর্ক, আলোচনা বা এমনকি প্রতিবাদ—সবকিছুরই শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত।” তাঁর মতে, সুস্থ বিতর্ক গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা রাজ্য ও দেশের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অরুণাচলপ্রদেশের কৌশলগত গুরুত্ব, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে রাধাকৃষ্ণন বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বাকি অংশের নিরাপত্তাও অরুণাচলের মানুষের সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, “অরুণাচলপ্রদেশ আমাদের দেশের সীমান্তের গর্বিত প্রহরী এবং ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আঞ্চলিক কণ্ঠস্বর ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি সংবিধান, একটি লক্ষ্য—‘রাষ্ট্র সর্বাগ্রে’ এবং একটি অভিন্ন স্বপ্ন—‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’।”
অনুষ্ঠানে অরুণাচলপ্রদেশের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে.টি. পারনায়েক (অবসরপ্রাপ্ত), মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এবং বিধানসভার স্পিকার তেসাম পংটে-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দু’দিনের সফরে মঙ্গলবার মণিপুর থেকে অরুণাচলপ্রদেশে পৌঁছন উপরাষ্ট্রপতি। সফরকালে তিনি ইটানগরের বিধানসভা গ্যালারি-কাম-মিউজিয়াম ‘নিয়েদার নামলো’, জওহরলাল নেহরু স্টেট মিউজিয়াম এবং শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য ডোনিই পোলো মিশন স্কুল পরিদর্শন করেন।
এদিন নিজের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু উপরাষ্ট্রপতির ভাষণকে স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য গণতন্ত্রের শক্তি যে সংলাপ, বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যে নিহিত, সেই বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
খান্ডু বলেন, “বিতর্ক, আলোচনা বা এমনকি প্রতিবাদ—সবকিছুরই শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত।” অরুণাচলপ্রদেশ বিধানসভার জন্য দিনটি অত্যন্ত স্মরণীয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সেবা এবং রাজ্য ও দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে অবদান রাখার যে দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের রয়েছে, উপরাষ্ট্রপতির বক্তব্য তা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে।
—আইএএনএস



















