কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সংকটাপন্ন রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করার দীর্ঘদিনের প্রবণতা বন্ধ করতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রোগী রেফারের নিয়ম আরও কঠোর করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, রাজ্যের সমস্ত সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট পর্যালোচনার পর রোগী রেফার সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হল—কোনও সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সংকটাপন্ন রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে অন্য হাসপাতালে রেফার করতে পারবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেই রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে হবে। এরপর একান্ত প্রয়োজন হলেই অন্য হাসপাতালে রেফার করা যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংকটাপন্ন রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটকে রেফারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ডেপুটি সুপার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে জানাতে হবে। এরপর ডেপুটি সুপার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার কলকাতার স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য ভবনের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
রেফার করা হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড খালি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরেই রোগীকে সেখানে পাঠানো যাবে। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকের কথায়, শুধুমাত্র চরম জরুরি পরিস্থিতিতে এবং রোগীর পরিবার অন্য হাসপাতালে রেফারের জন্য জোর দিলে এই ধরনের রেফারাল বিবেচনা করা হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের মতে, নতুন নির্দেশিকার লক্ষ্য শুধু অপ্রয়োজনীয় রোগী রেফার বন্ধ করা নয়, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে থাকা ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতর ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (সিসিএমআইএস)-এর পর্যালোচনা করে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এই পোর্টালে আপলোড করার কথা। পোর্টাল পর্যালোচনার সময় দেখা যায়, একাধিক সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে থাকা ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিকাঠামো তার পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতেই রোগী রেফারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও রাজ্যের সমস্ত সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের জন্য পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করতে হবে। প্রতিটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত ‘ইনফেকশন কন্ট্রোল নার্স’-কে নিয়মিতভাবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের আশা, নতুন নির্দেশিকাগুলি কার্যকর হলে অপ্রয়োজনীয় রোগী রেফারের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলির ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার এবং রোগী পরিষেবার মানও উন্নত হবে।
























