নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলায় মাদক সংক্রান্ত সমস্যার জেরে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের পদত্যাগ এবং অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার গ্রেপ্তারের দাবি তুলল শিরোমণি অকালি দল ও কংগ্রেস। বিরোধীদের অভিযোগ, আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের আমলে রাজ্যে মাদকের অবস্থা ভয়াবহ আকার নিয়েছে এবং ‘‘খাবার পৌঁছনোর চেয়েও দ্রুত মাদক পৌঁছে যাচ্ছে’’।
সাঙ্গরুরের বাসিন্দা গুলজার সিং পাঞ্জাবে মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগ, নিজের গ্রামে ‘চিট্টা’—মাদক বোঝাতে প্রচলিত একটি শব্দ—এর ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন করার পর তিনি চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন। এরপরই তিনি বিষপান করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন এসএডি নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া। তাঁর অভিযোগ, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারকে রক্ষা করতে না পারায় হতাশ এক বাবা সাহস করে স্থানীয় বিধায়ক তথা অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয় বলে দাবি মাজিথিয়ার।
মাজিথিয়া বলেন, পাঞ্জাবে মাদকের পরিস্থিতি গত সাড়ে চার বছরে ক্রমশ খারাপ হয়েছে এবং গুলজার সিংয়ের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হরপাল সিং চিমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মৃত্যুকালীন বক্তব্য সবাই শুনেছেন। তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে?’’
গুলজার সিংয়ের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এসএডি নেতা। তাঁর দাবি, প্রথমে সাঙ্গরুর থেকে তাঁকে পাতিয়ালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভেন্টিলেটর না থাকায় ফের সাঙ্গরুরে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ডিএমসিতে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নিয়েও সরব হন তিনি।
মাজিথিয়ার অভিযোগ, হরপাল সিং চিমাকে বাঁচাতে গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এএপি সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘পাঞ্জাবে খাবারের চেয়েও দ্রুত মাদক পৌঁছে যাচ্ছে।’’
কংগ্রেস সাংসদ অমর সিংও পাঞ্জাবে মাদক সমস্যাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, এএপি সরকারের আমলে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা ও রাস্তায় মাদক অবাধে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবের যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অমর সিংয়ের দাবি, ‘‘ভগবন্ত মান ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার এই সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।’’ তাঁর মতে, এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
এর আগে বিজেপিও পাঞ্জাবের এএপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যে মাদকের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়।
তবে এএপি নেতা অনুরাগ ধান্ডা বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, হাজার হাজার মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরা শাস্তি ভোগ করবেন। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত আরও কেউ ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এসএডি ও বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে ধান্ডা অভিযোগ করেন, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে অকালি দল-বিজেপি সরকারের আমলে মাদক মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছিল। বর্তমানে এসএডি ও বিজেপি ‘‘পেছনের দরজা দিয়ে’’ জোট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
























