ইটানগর, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় অরুণাচল প্রদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন। বুধবার ইটানগরে অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশের কাছে এই রাজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশের মানুষ যেভাবে দেশের সীমান্ত রক্ষা করেন, তার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অংশের নিরাপত্তাও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই সীমান্তবর্তী এই রাজ্যের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা একইসঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে কেন্দ্রের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক (ডোনার) গঠনের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অরুণাচল প্রদেশের উন্নয়নমূলক সাফল্যের জন্য রাজ্য সরকার ও সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানান রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেন, দেশে কিউই উৎপাদনে অরুণাচল প্রদেশ শীর্ষস্থানীয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সড়ক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, এক লক্ষেরও বেশি সয়েল হেলথ কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বিধায়কদের গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজ্য ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের উল্লেখ করে রাধাকৃষ্ণন ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বিধায়কদের সেই ঐতিহ্যের মর্যাদা রাখার আহ্বান জানান।
অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ হওয়ায় তিনি বিধানসভাকে অভিনন্দন জানান। বিধানসচিবালয়কে প্লাস্টিকমুক্ত করা এবং বিধানসভা গ্রন্থাগার ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
বিধায়কদের নির্বাচনী সাফল্যের চেয়ে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন জেতা সম্ভব হলেও মানুষের সম্মান ও আস্থা অর্জন করা যায় কেবল নিষ্ঠার সঙ্গে জনসেবা করার মাধ্যমে। জনস্বার্থ ও নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্যা তুলে ধরতে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ার কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাধাকৃষ্ণন আইনসভার কার্যক্রমে সংলাপ, বিতর্ক ও আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁর কথায়, বিতর্ক, আলোচনা বা এমনকি বাধাদান—সবকিছুর পরিণতি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মধ্যে হওয়া উচিত। সুস্থ বিতর্ক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা রাজ্য ও দেশের অগ্রগতিতে সহায়তা করে বলেও তিনি জানান।
রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘বিকশিত অরুণাচল প্রদেশ’ ছাড়া ‘বিকশিত ভারত’ সম্ভব নয়। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি অংশে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনও জনজাতি বা প্রান্তিক সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে রাখা যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অরুণাচল প্রদেশের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার রাজ্যের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সংবিধান, ‘রাষ্ট্র প্রথম’ ভাবনা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। জাতীয় কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও ঐতিহ্যের মধ্যে নিহিত ঐক্যবদ্ধ চিন্তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে বিধানসভা চত্বরে পৌঁছে উপরাষ্ট্রপতি মহাত্মা গান্ধী এবং বাবাসাহেব ড. বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়। পরে তিনি অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে রাজ্য বিধানসভার বিবর্তন, বিকাশ এবং দীর্ঘ আইনপ্রণয়ন যাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
(আইএএনএস)



















