আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: দিল্লিতে মণিপুরের সুপরিচিত সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষক চৌথম বিক্রম সিংহের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ত্রিপুরা বিধানসভার কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা তথা বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে দিল্লিতে, বারবার আক্রমণের অভিযোগ নিয়ে সরব হন তিনি।
বীরজিৎ সিনহা বলেন, চৌথম বিক্রম সিংহ দিল্লিতে সঙ্গীতের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে গিয়ে খাদ্য সরবরাহের কাজে যুক্ত যুবকদের সঙ্গে তাঁর কোনও এক সময়ের বিরোধের সূত্র ধরে মারামারির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সেই ঘটনার পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ দেশের কোনও অংশে বহিরাগত নন। তাঁরা ভারতেরই নাগরিক।উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয়রা বহিরাগত নই, আমরাও ভারত”—এই বার্তা দিয়ে ঘৃণা-জনিত অপরাধ বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
বিধায়ক অভিযোগ করেন, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিকরা নানা ধরনের আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এসসি-এসটি অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্টের আওতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান কি না, সেই প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে মণিপুরের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
চৌথম বিক্রম সিংহের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ জবাবদিহি দাবি করে বীরজিৎ সিনহা বলেন, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুষ্কৃতীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোনও নাগরিকের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ থেকে এমন অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়, দাবি করেন বীরজিৎ সিনহা।





















