ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার ঢাকার বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
সাক্ষাতে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ ও কল্যাণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক্স-এ জানায়, হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি আলমগীরকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তাঁর সফল কার্যকালের জন্য শুভকামনা জানান।
বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। উভয় পক্ষই দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
এর আগে গত মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অভিনন্দন বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, দীর্ঘদিনের জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের সেবায় আলমগীরের সফল কার্যকালের পথ প্রশস্ত করবে।
রাষ্ট্রপতি মুর্মু আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ বন্ধনে আবদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব বিষয়ক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে, সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন বলে ভারত সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ভারতের তরফে ইতিমধ্যেই স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত মাসে ভারত জানিয়েছিল, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলি হল বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড।
৪ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য পৃথক আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আঞ্চলিক সংগঠনগুলির প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রচলিত রীতি অনুযায়ীই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
—আইএএনএস



















