ভদোদরা, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডিএফসি) নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ হওয়াকে দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার ভদোদরায় পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের (ডব্লিউডিএফসি) শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার পর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই পরিকাঠামোর ফলে পণ্য পরিবহণের সময়, জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ কমবে এবং কৃষকরা দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য আরও দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২,৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি ডেডিকেটেড ফ্রেট পরিকাঠামো সম্পূর্ণ হওয়া একবিংশ শতাব্দীর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর কথায়, “দ্রুত বিকাশশীল ভারতের লাইফলাইন হল ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর।” এই প্রকল্প দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ডব্লিউডিএফসির সদ্য সম্পূর্ণ হওয়া তিনটি অংশের দৈর্ঘ্য ৩২৬ রুট কিলোমিটার এবং নির্মাণে খরচ হয়েছে ২০,৭০০ কোটি টাকারও বেশি। এই অংশগুলি চালু হওয়ার ফলে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর নেটওয়ার্কের গোটা দৈর্ঘ্য জুড়ে পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে চালু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে পণ্যবাহী ট্রেনগুলিকে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে একই রেলপথ ব্যবহার করতে হত। ফলে যাত্রী ও পণ্য—উভয়ের পরিবহণেই সময় বেশি লাগত। এখন পৃথক রেলপথ থাকায় যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচলের ওপর নির্ভর না করে পণ্যবাহী ট্রেন চলতে পারছে। পূর্ব ও পশ্চিম ফ্রেট করিডর মিলিয়ে প্রতিদিন ৪৩০টিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে বলেও জানান তিনি।
মোদি বলেন, আগে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা সময় লাগত। ডেডিকেটেড করিডরে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে এখন তার অর্ধেকেরও কম সময় লাগছে। একইভাবে, ট্রাকে যে পণ্য পরিবহণে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে, ফ্রেট করিডরের মাধ্যমে তা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই পরিকাঠামোর সুফল শুধু পরিবহণের গতি বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে, পণ্য পরিবহণের খরচ কমছে, সময় বাঁচছে এবং পরিবেশও উপকৃত হচ্ছে।
ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর শিল্পাঞ্চল ও বন্দরগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে বলেও জানান তিনি। সদ্য চালু হওয়া তিনটি অংশ—সানন্দ (উত্তর)-মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও-নিউ সাফালে এবং নিউ সাফালে-জওহরলাল নেহরু পোর্ট অথরিটি (জেএনপিএ)—দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সঙ্গে সরাসরি পণ্য পরিবহণের সংযোগ তৈরি করেছে।
এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত পরিবহণ, লজিস্টিক খরচ কমানো এবং মুম্বইয়ের রেল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের কৃষিপণ্য দ্রুত বৃহত্তর বাজারে পৌঁছতে পারবে। বিশেষ করে ফুল, সবজি ও ফলের মতো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্য পরিবহণের সময় কমলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
জেএনপিটি থেকে ভদোদরা পর্যন্ত সম্প্রতি চালু হওয়া ডাবল-স্ট্যাক কনটেনার পণ্যবাহী ট্রেনের উদাহরণও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, একটি ট্রেনের একবারের যাত্রায় ২৫০টিরও বেশি ট্রাকে পরিবহণ করা যায়—এমন পরিমাণ পণ্য বহন করা হয়েছিল।
এর পাশাপাশি, কয়েক দশক ধরে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অঞ্চলগুলিতেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নিউ সানন্দ (উত্তর), নিউ মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও এবং নিউ জেএনপিটি থেকে পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবার সূচনা করা হয়। পাশাপাশি ভদোদরা-তাণ্ডা রোডের মধ্যে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হয়।
ছোটাউদেপুর-ধার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত জোবাট-তাণ্ডা রোড রেলপথও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। এর মাধ্যমে আলিরাজপুরের প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলি জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর দেশের সড়ক, রেল, বন্দর ও মাল্টিমোডাল পরিবহণ পরিকাঠামোর বৃহত্তর সম্প্রসারণের অংশ। এর লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ ও পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর করে তোলা।
—আইএএনএস



















