নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাকিস্তানের বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলেও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। সামরিক বাহিনীর নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বড় ধরনের সামরিক-বেসামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে এক আধিকারিকের দাবি।
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কঠোর হাতে দেশের রাজনৈতিক ও জনমত নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধৈর্য এখন ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনগণের মুখোমুখি হতে হয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। ফলে বালোচিস্তান, পিওকে এবং কেপিতে চলতে থাকা হিংসা ও অস্থিরতার ব্যাখ্যা দেওয়া তাদের পক্ষে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল এতদিন দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির কথা বললেও সামরিক বাহিনী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করে এসেছে। এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিকের দাবি, ভারতকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরার পুরনো প্রচার এখন আর আগের মতো কার্যকর হচ্ছে না। পিওকে-তে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ তার অন্যতম উদাহরণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পিওকে-র পরিস্থিতির সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের তুলনাও টানা হচ্ছে। পরিকাঠামো ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে পিওকে-র সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলছেন বলে ওই আধিকারিক জানান।
সম্প্রতি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের বক্তব্যও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি ভারতের কাছ থেকে আসা বহিরাগত হুমকির পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদকেই পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি বালোচিস্তান, কেপি এবং পিওকে-র চলমান সমস্যা মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি, আরও ভালো সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
আরেক আধিকারিকের মতে, সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রচারে রাজনৈতিক মহল স্পষ্টতই বিরক্ত। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ নতুন নয়, তবে আসিম মুনিরের আমলে তা আরও তীব্র হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এতদিন সামরিক বাহিনী বিরোধী মত দমন করতে সক্ষম হলেও পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পাকিস্তান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী মহলের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষ যদি সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত বয়ানের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব তৈরি করতে থাকে, তাহলে সেনাবাহিনীর মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে। এর ফলেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ওই আধিকারিকের আরও দাবি, বালোচিস্তান, কেপি এবং পিওকে-তে বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনী কথিত ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠন করে তাদের অর্থ জোগাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেখানে মানুষের সমস্যা সমাধান ও উন্নত সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে সামরিক বাহিনী কঠোর দমননীতির পথে হাঁটছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কার্যত দুই ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সামরিক বাহিনী নিজেদের বয়ান নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক মহলে বাড়তে থাকা ভিন্নমত ও জনঅসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং পাকিস্তানে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই আধিকারিক।
—আইএএনএস (IANS)



















