শ্রীনগর, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মাসিক স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবিতে জম্মু-কাশ্মীরের মেডিক্যাল ইন্টার্নদের অনশন মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে পড়ল। বিক্ষোভকারী ইন্টার্নরা জানিয়েছেন, স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশ জারি না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
বিক্ষোভরত ইন্টার্নদের সঙ্গে সংহতি জানাতে মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বডগাম বিধায়ক সৈয়দ আগা মুনতাজির মেহদি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেডিক্যাল ইন্টার্নদের আন্দোলন এখনও চলতে থাকাই প্রমাণ করে যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের অগ্রাধিকার ঠিক জায়গায় নেই।
গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা ইন্টার্নরা তাঁদের মাসিক স্টাইপেন্ড ১২,৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বাড়লেও ২০১৮ সাল থেকে তাঁদের স্টাইপেন্ডে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রী সাকিনা ইটুর সঙ্গে আন্দোলনরত ইন্টার্নদের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ইন্টার্নদের দাবি, শুধু আশ্বাসে তাঁরা সন্তুষ্ট নন; স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির বিষয়ে লিখিত সরকারি নির্দেশ প্রয়োজন।
মঙ্গলবারই ইন্টার্নদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মন্ত্রী সাকিনা ইটুর। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।
জম্মু-কাশ্মীরের ১০টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং দুটি ডেন্টাল কলেজের ইন্টার্নরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা আগের একটি সরকারি সুপারিশ কার্যকর করতে দেরি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। ২০২৩ সালের জুনে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশ নম্বর ৫৩৮-জেকে(এইচএমই)-তে ২০১৯ সালের ১২,৩০০ টাকা হারের পরিবর্তে স্টাইপেন্ড বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জানিয়েছিলেন, বিষয়টি আরও আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ইন্টার্নদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে তাঁদের কাজ ও প্রশিক্ষণ প্রভাবিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইটু ইন্টার্নদের কাজে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের কারণে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় মেডিক্যাল ইন্টার্নরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা বহির্বিভাগ (ওপিডি), অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকেন। গত এক সপ্তাহ ধরে ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে থাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ইতিমধ্যেই কর্মীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
_______



















