চেন্নাই, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির জেরে জল জমে নতুন করে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় চেন্নাইয়ের গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশন (জিসিসি) শহরের ১৫টি জোনেই ডেঙ্গু নজরদারি এবং মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান জোরদার করেছে।
নাগরিক সংস্থার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বরের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা, মশার প্রজননস্থল নির্মূল করা এবং স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের সম্ভাব্য গুচ্ছ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বিভাগের পরিচালক ড. সোমসুন্দরমের সভাপতিত্বে জেলা স্তরের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়াতে এবং প্রতিরোধমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জোনাল স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিষয়ে প্রতিদিন রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা দ্রুত তথ্য পাবেন এবং কোনও এলাকায় জ্বরের ঘটনা বাড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ করা কর্মীদের জ্বরাক্রান্ত বাসিন্দাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও রোগীর সন্ধান মিললে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিদর্শককে জানাতে হবে, যাতে রোগীর যাচাই, পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্টিং করা যায়।
এর পাশাপাশি বৃষ্টির জল জমতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও অন্যান্য বস্তু সরিয়ে ফেলার অভিযানও জোরদার করেছে কর্পোরেশন। খালি জমি, হাসপাতাল, স্কুল, সরকারি দফতর, পার্ক এবং নির্মাণস্থলগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পড়ে থাকা পাত্র, আবর্জনা বা অন্যান্য সামগ্রীতে জমা জল মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
আধিকারিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করে জমে থাকা জল দ্রুত সরিয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের জায়গাতেই এই নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বাসিন্দাদেরও অভিযানে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে কর্পোরেশন। বাড়ির আশপাশে আবর্জনা জমতে না দেওয়া, ওভারহেড ট্যাঙ্ক, মাটির সমতলের জলাধার এবং কুয়ো ঢেকে রাখা এবং নিয়মিতভাবে বাড়ির চত্বর পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুলের টবের নিচের ট্রে ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা জল অন্তত সপ্তাহে একবার ফেলে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। বৃষ্টির পর বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও উঠানেও একইভাবে জল জমেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
কর্পোরেশনের মতে, হাসপাতাল, মাঠকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদানই জ্বরের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত এবং বৃষ্টির এই সময়ে চেন্নাইয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
–আইএএনএস



















