নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): উদীয়মান অর্থনীতিগুলির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্রিকস আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্ব দেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে বলে একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান টাইমস নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির পরিকাঠামো বর্তমানে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রশাসনে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিকস। পাঁচটি প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির গোষ্ঠী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি গ্লোবাল সাউথের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা—‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’—অর্থাৎ স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে তোলা। ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নিয়ে বিস্তৃত ব্রিকস এখন আরও বড় ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিসর তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি ১০টি অংশীদার দেশও গোষ্ঠীটির আন্তর্জাতিক পরিধি আরও বাড়িয়েছে।
অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ব্রিকসের এই সম্প্রসারণ ভারতের জন্য রপ্তানি বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমেরু বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বৃহৎ উৎপাদনশীল অর্থনীতি, প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ, কৃষিপণ্য উৎপাদক, বড় ভোক্তা বাজার, প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি। ফলে সদস্য দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক পরিপূরকতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। উৎপাদনশীল অর্থনীতির প্রয়োজন জ্বালানি ও কাঁচামাল, অন্যদিকে পণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলির প্রয়োজন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও শিল্পের বৈচিত্র্যকরণ। একই সঙ্গে বড় ও দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারগুলি উৎপাদিত পণ্য, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, পরিষেবা এবং প্রযুক্তি বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক বাধা এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আরও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যই তার অন্যতম বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিকস বর্তমানে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও উঠে এসেছে। সার্বভৌম সমতা, অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান এবং ঐকমত্যভিত্তিক আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে গোষ্ঠীটি এখন শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ডিজিটাল রূপান্তরেও সহযোগিতা বাড়ছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সভাপতিত্বে গত ১৪ ও ১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই বিস্তৃত কর্মসূচি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং জবাবদিহিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষেও সওয়াল করা হয়।
নিবন্ধটির মতে, ব্রিকস এখন আর শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক জোট হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। উদীয়মান অর্থনীতিগুলি যাতে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর পায়, সেই লক্ষ্যে এটি ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে।


















