ভদোদরা, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০১৪ সালের পর ভারতে রেল পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পূর্বতন ইউপিএ-নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের সময়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি তুলনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার ভদোদরায় ‘নমো ৪ বিকশিত ভারত’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে অনেক দ্রুতগতিতে নতুন ট্রেন, কোচ এবং পণ্যবাহী ওয়াগন যুক্ত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারগুলি রেল বাজেটে এক-দু’টি নতুন ট্রেন ঘোষণা করত এবং তারপর সেই ঘোষণাকে ঘিরে সারা বছর প্রচার চালানো হতো। তাঁর কথায়, এখন সারা বছর ধরে একের পর এক নতুন ট্রেন চালু হচ্ছে।
মোদি জানান, এদিনও একাধিক নতুন রেল পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ভদোদরা থেকে টান্ডা রোডের মধ্যে নতুন যাত্রী পরিষেবা রয়েছে, যা ভদোদরা, ছোটাউদেপুর এবং আলিরাজপুরের যাত্রীদের উপকৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছোটাউদেপুর-ধার রেল প্রকল্পের অন্তর্গত জোবাট-টান্ডা রোড রেলপথও এদিন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়।
২০১৪ সালের পর দেশে রেল কোচ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পর ভারত প্রায় ৫০ হাজার আধুনিক রেল কোচ তৈরি করেছে।
এরপরই পূর্বতন ইউপিএ সরকারের সঙ্গে তুলনা টেনে মোদি বলেন, “আগের সরকার ১০ বছরে ৫০ হাজার শৌচাগারও তৈরি করতে পারেনি।” তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের পর ৫০ হাজার আধুনিক কোচ তৈরির পাশাপাশি ভারতীয় রেলে প্রায় ২.৫ লক্ষ পণ্যবাহী ওয়াগন যুক্ত হয়েছে।
ভদোদরায় পরিবহণ পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনার সময় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে আসে। এর মধ্যে ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের কাজের সম্পূর্ণতাও রয়েছে।
মোদি জানান, চলতি বছরের রেল বাজেট ২.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রায় ১২ বছর আগের বরাদ্দের তুলনায় এই অর্থ কয়েক গুণ বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিকাঠামোয় বাড়তি বিনিয়োগের ফলে শুধু নির্মাণপর্বেই কর্মসংস্থান তৈরি হয় না, প্রকল্প চালু হওয়ার পরও তার প্রভাব পড়ে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা, রেলপথ, পাইপলাইন, বন্দর বা বিমানবন্দর তৈরি হলে তার আশপাশে নতুন শিল্প গড়ে ওঠে এবং নতুন ব্যবসা শুরু হয়। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে।
ভদোদরার শিল্পোন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় বস্ত্র ও টাইলস উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই শহর পরে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে।
ভদোদরায় সি-২৯৫ সামরিক পরিবহণ বিমান তৈরির প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর দাবি, শহরটি এখন ভারতের প্রথম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সামরিক পরিবহণ বিমান তৈরির জন্যও পরিচিত হয়ে উঠেছে।
এদিন ভদোদরায় বৃহত্তর পরিকাঠামো কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯,৭০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মোট ৩২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ভদোদরা-রতলাম রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন, মিয়াগাম কারজন-চোরান্ডা-মালসার অংশের গেজ রূপান্তর এবং বিশ্বামিত্রী-দাভোই রেলপথের ডাবলিং।
রেল কোচ, ইঞ্জিন ও ওয়াগন উৎপাদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
প্রায় দুই দশক আগে পরিকল্পনা নেওয়া ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভদোদরায় এদিন ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের শেষ পর্যায়ের ৩২৬ কিলোমিটার অংশ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। এই অংশ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২০,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।
–আইএএনএস


















