ভদোদরা, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গুজরাতের ভদোদরায় মঙ্গলবার ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল, সড়ক, আবাসন, জল সরবরাহ এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডাব্লিউডিএফসি)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির কাজ সম্পূর্ণ হওয়া।
অনুষ্ঠানে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেন, এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি আবাসন, পানীয় জল এবং নগর পরিষেবার সুযোগও আরও সম্প্রসারিত হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভদোদরায় স্বাগত জানিয়ে বলেন, একদিনেই ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন।
পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের তিনটি অংশ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। মোট ৩২৬ রুট কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশগুলি নির্মাণে ২০,৭০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সানন্দ (উত্তর)-মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও-নিউ সাফালে এবং নিউ সাফালে-জওহরলাল নেহরু পোর্ট অথরিটি (জেএনপিএ) অংশ।
এই অংশগুলি চালু হওয়ার ফলে গোটা পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং জেএনপিএ-র সঙ্গে সরাসরি পণ্য পরিবহণের সংযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত পরিবহণ, লজিস্টিক খরচ কমানো এবং মুম্বইয়ের রেল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নিউ সানন্দ (উত্তর), নিউ মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও এবং নিউ জেএনপিটি, মুম্বই থেকে পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবারও সূচনা করেন। পাশাপাশি ভদোদরা থেকে তাণ্ডা রোডের মধ্যে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়। ছোটাউদেপুর-ধার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত জোবাট-তাণ্ডা রোড রেলপথও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়।
এই রেলপথের মাধ্যমে আলিরাজপুরের প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর চালু হওয়ায় গুজরাতের কৃষিপণ্য, শিল্পজাত পণ্য এবং অন্যান্য সামগ্রীর পরিবহণ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ৩২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ৯,৭০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ভদোদরা-রতলাম রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন, মিয়াগাম কারজন-চোরন্দা-মালসার অংশের গেজ পরিবর্তন এবং বিশ্বামিত্রি-দাভোই অংশের ডাবলিং।
এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বাড়ানো, যানজট কমানো এবং গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রায় ১,৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে এনএইচ-৪৮-এর কামরেজ-চালথান অংশ ছয় লেনে উন্নীত করা, ভদোদরা-সুরাত অংশে তাপী ও নর্মদার ওপর বড় সেতু-সহ অতিরিক্ত পরিকাঠামো নির্মাণ এবং এনএইচ-৫৩-এর আবাভা, মিন্ধোলা ও খাজোদ জংশনে গ্রেড-সেপারেটেড কাঠামো তৈরি।
কান্দারি চকড়ি এবং লুভারা পাটিয়ায় ছয় লেনের ফ্লাইওভারও উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকার রাজ্য সরকারি প্রকল্পেরও উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভদোদরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির রিং রোডের দ্বিতীয় পর্যায়, কাদানা বাঁধে ১১০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নতুন ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ভবন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় আবাসন প্রকল্প এবং পূর্ব ভদোদরার ১১টি গ্রামের জন্য জল সরবরাহ প্রকল্পও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শহর ও গ্রামীণ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ইতিমধ্যেই ১৬.৫৩ লক্ষেরও বেশি বাড়ি সুবিধাভোগীদের দেওয়া হয়েছে। ‘নল সে জল’ কর্মসূচির মাধ্যমে পানীয় জলের পরিষেবাও সম্প্রসারিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান প্যাটেল। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা, জনস্থান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে অংশ নেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের জন্য ২০ লক্ষ চারা বিতরণ করা হয়।
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী মহাকাশ, রেল, প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষেত্রের বিভিন্ন অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের বিক্রম-১, ভারতের হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন, সি-২৯৫ সামরিক পরিবহণ বিমান, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি নৌযুদ্ধজাহাজ এবং সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘বিকশিত গুজরাত’ গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান ভূপেন্দ্র প্যাটেল।



















