নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের ট্রায়াল আগামী বছরের মে-জুন নাগাদ শুরু হতে পারে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ট্রায়াল পর্ব শেষ হওয়ার ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেনটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার ভদোদরায় ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাই-স্পিড ট্রেনের প্রথম বডি ফ্রেমের নির্মাণ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সেটি ‘স্কুইজ টেস্ট’-এর জন্য পাঠানো হয়েছে।
বৈষ্ণব বলেন, “আগামী বছরের মে বা জুনের মধ্যে ভারতের নিজস্ব বুলেট ট্রেন ট্রায়ালের জন্য রেললাইনে চলবে। ২ থেকে ৪ মাসের পরীক্ষামূলক পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুলেট ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন।”
‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই পরিষেবা চালু হলে ভদোদরা ও মুম্বইয়ের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ভদোদরা থেকে বুলেট ট্রেনে মুম্বই পৌঁছতে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডরের নির্মাণকাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে জানান বৈষ্ণব। তাঁর মতে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সুরাত-ভাপি অংশের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেল ব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, রেল পরিচালন ব্যবস্থা, টিকিট সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত পুরনো প্রোটোকল আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।
বৈষ্ণব বলেন, গত কয়েক বছরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক রেল প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চেনাব সেতু এবং মিজোরামকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা রেল যোগাযোগ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রেলমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ২৮০টি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৩৬,০০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন পাতা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দে ভারত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রেনও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কোভিড-১৯ মহামারির মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশে রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি বেড়েছে বলে দাবি করেন বৈষ্ণব। ২০২০ সালে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের প্রথম অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী অংশগুলির নির্মাণকাজ আরও গতি পায় বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় রেলের যে আধুনিক রূপ গড়ে উঠছে, তা আগামী বহু প্রজন্মকে উপকৃত করবে।”
—আইএএনএস



















