মুম্বই, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করলেন সংগীতজগতের একাধিক শিল্পী। নীতিন মুকেশ, কুমার শানু এবং সুদেশ ভোঁসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আশা ভোঁসলের সঙ্গে তাঁদের স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
নীতিন মুকেশ একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে আশা ভোঁসলেকে তাঁর জনপ্রিয় গান ‘তু তু হ্যায় ওয়াহি দিল নে জিসে আপনা কহা’ গাইতে দেখা যায়। সেই সংগীতের আসরে কিংবদন্তি গায়িকার পায়ের কাছে বসে ছিলেন নীতিন মুকেশের ছেলে তথা অভিনেতা নীল নীতিন মুকেশ। ভিডিওটি শেয়ার করে নীতিন লিখেছেন, ‘‘পূজ্য আশাতাই… সত্যিই, জিনা তেরে বিন হ্যায় সাজা… এই পৃথিবী আপনাকে কখনও ভুলতে পারবে না।’’
অন্যদিকে কুমার শানু আশার জন্মদিনে তাঁর কণ্ঠের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘ সংগীতজীবনের উত্তরাধিকারকে স্মরণ করেন। আশার সঙ্গে নিজের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, তাঁর গান শুধু অসংখ্য আবেগকে জীবন্ত করে তোলেনি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি অমর সংগীত-ঐতিহ্য তৈরি করেছে। একই সংগীতযাত্রার অংশ হতে এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানার সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন কুমার শানু।
তিনি আরও লেখেন, আশার উপস্থিতি চিরকাল অনুভূত হবে এবং তাঁর অভাব গভীরভাবে অনুভূত হলেও তাঁর সংগীত কখনও মানুষের কাছ থেকে দূরে যাবে না। কুমার শানু ও আশা ভোঁসলে ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকে একাধিক জনপ্রিয় দ্বৈত গান উপহার দিয়েছিলেন। ‘বেখুদি’ ছবির ‘দেখ কে ইয়ে রুমাল’ এবং ‘খত ম্যায়নে তেরে নাম লিখা’-র পাশাপাশি ‘মম্মি ড্যাডি মেরি শাদি করবা রহে হ্যায়ন’ গানটিও তাঁদের উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ‘ত্যাগী’ ছবির ‘মুঝকো তো কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘কন্যাদান’-এর ‘ম্যায়না বোল রাহি’ গানেও তাঁদের কণ্ঠ শোনা গেছে।
প্রবীণ গায়ক সুদেশ ভোঁসলেও আশা ভোঁসলেকে ‘আশা আই’ বলে সম্বোধন করে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি লেখেন, ‘‘প্রতি মুহূর্তে তোমাকে মিস করি, আশা আই। তোমার ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে তোমার আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনাই আমার শক্তি। তোমাকে চিরকাল ভালোবাসব।’’
সুদেশ তাঁর পোস্টে আশা ভোঁসলের সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের একটি কোলাজও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর সন্তানদের সঙ্গেও কিংবদন্তি গায়িকার কিছু মুহূর্ত দেখা যায়। পোস্টের সঙ্গে ‘জামানে কো দিখানা হ্যায়’ ছবির ‘পুছো না ইয়ার ক্যা হুয়া’ গানটি যুক্ত করেন তিনি।
আশা ভোঁসলে ও সুদেশ ভোঁসলের দীর্ঘ সংগীত-সম্পর্কেরও উল্লেখ করেন তিনি। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘আশা রিভিলস রিয়েল আরডি’ অ্যালবামে দু’জনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। অ্যালবামটিতে প্রয়াত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মনের বিরল ও আগে প্রকাশিত না হওয়া বেশ কিছু কম্পোজিশন ছিল। এর মধ্যে ‘মুথুকোডি কাওয়াড়ি হাদা’, ‘কারলে পেয়ার’ এবং ‘ভালি ভালি সি এক সুরত’-এর মতো গান উল্লেখযোগ্য।
আশা ভোঁসলের জন্মবার্ষিকীতে সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতের আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রদ্ধা জানান। তাঁর দীর্ঘ আট দশকের সংগীতজীবনে বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন তিনি।
আশা ভোঁসলে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল মুম্বইয়ে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বলিউড ও সংগীত জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান।
























