নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং বিহারের মানুষকে নিয়ে কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে কৌতুকশিল্পী সময় রায়নার সমালোচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের নেতাদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে প্রচারের আলোয় আসতে চান এবং জনপ্রিয়তা অর্জনই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট’-এর একটি পর্বে সময় রায়না ও কৌতুকশিল্পী শ্যারন ভার্মার মধ্যে রোস্ট পর্বে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ উঠে আসে। দু’জনেই নিজেদের পারিবারিক ও আঞ্চলিক পরিচয় নিয়ে পরস্পরকে কটাক্ষ করেন। সময় শ্যারনের বিহারি পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে শ্যারনও সময়ের কাশ্মীরি পরিচয় নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন।
সময় রায়না তাঁর কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিচয় এবং পরিবারের কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বলেছেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে ‘‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট’-এ উপস্থিতির পর শ্যারন ভার্মাও পরিচিতি পান।
এই বিতর্ক নিয়ে আইএএনএসকে বিজেপি বিধায়ক রাম কদম বলেন, “সমাজে কিছু শক্তি রয়েছে যারা শুধুমাত্র প্রচার পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য বিখ্যাত হওয়া। সনাতন হিন্দুধর্মের দেবদেবী এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপহাসের বিষয় হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর কিছু করার পর শুধু ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি শেষ করে দিতে পারেন না। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিনামূল্যে গোটা দেশে যে প্রচার চেয়েছিলেন, তা পেয়ে যান।
বিহারের মন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি বলেন, দেশের কোনও নাগরিককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “আমরা অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখি এবং আমাদের কাছে রাজা ও সাধারণ মানুষ সমান।”
তিনি আরও বলেন, জাত বা ধর্মের ভিত্তিতে দেশে কোনও বৈষম্য থাকা উচিত নয় এবং এটাই বিজেপির স্পষ্ট অবস্থান।
জম্মু ও কাশ্মীর বিজেপির মুখপাত্র আলতাফ ঠাকুরও মন্তব্যগুলির নিন্দা করেন। তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন।
ঠাকুর বলেন, “কাশ্মীরি পণ্ডিতরা এই দেশের, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরেরই অংশ। যে পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদীরা তাঁদের উপত্যকা থেকে বিতাড়িত করেছিল এবং পাকিস্তান ও আইএসআই তাঁদের উপর অত্যাচার চালিয়ে সম্পত্তি পুড়িয়ে দিয়ে দেশছাড়া করার ষড়যন্ত্র করেছিল, তা ভারতের ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়।”
তিনি বলেন, বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত এখনও নিজেদের জন্মভূমি থেকে দূরে বসবাস করছেন এবং কাশ্মীরে তাঁদের পূর্বপুরুষের জমি ও বাড়িঘর এখনও তাঁদের কাছে গভীর আবেগের বিষয়।
“এই ঘৃণ্য শব্দবন্ধ যেভাবে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে, তার সভ্য সমাজে কোনও স্থান নেই। এই অনুষ্ঠানে যেভাবে মন্তব্যটি করা হয়েছে, তা নিন্দনীয় ও আপত্তিকর। কোনওভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়,” বলেন ঠাকুর।
তিনি আরও দাবি করেন, যাঁরা এই মন্তব্য করেছেন তাঁদের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী, আইএসআই এবং পাকিস্তানের হাতে জোর করে কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত কোনও সম্প্রদায়, ধর্ম বা গোষ্ঠীকে কোনও পরিস্থিতিতেই অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করা উচিত নয়।
কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের এক সদস্যও এই মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নাম ব্যবহার করে আগে রাজনৈতিক দলগুলি ফায়দা তুলত, এখন ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সাররাও তা করছেন।
তিনি বলেন, “আমরা কী পরিস্থিতিতে কাশ্মীর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম, তাঁরা তা জানেন না। ১৯৯০-এর দশকে আমরা বিভিন্ন রাজ্যে ছাদহীন ও পকেট খালি অবস্থায় জীবন কাটিয়েছি। কোনওরকমে সন্তানদের বড় করেছি। আজ আমাদের সন্তানদের কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আবার কেউ বড় সংস্থার সিইও।”



















