আইজল, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): নীতি আয়োগের ‘ভারতের জিঞ্জার ক্যাপিটাল’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর মিজোরামে আদা চাষ আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী পি.সি. ভানলালরুয়াতা জানিয়েছেন, আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা আরও বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালে মিজোরামকে ‘ভারতের জিঞ্জার ক্যাপিটাল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নীতি আয়োগ। রাজ্যে ব্যাপক হারে আদা উৎপাদন এবং দেশের আদা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই মর্যাদা দেওয়া হয়।
আইজলের ফালকাউনে একটি ভোজ্য তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কল্যাণে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আদার পাশাপাশি সূর্যমুখী, তিল, অড়হর ডাল এবং সর্ষে চাষেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত বাজার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা—ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট ২০২৩-২৪-এর আওতায় এই ভোজ্য তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনের সময় কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির সফল পরীক্ষামূলক পরিচালনাও করা হয়।
মিজোরামের মধ্যেই আধুনিক তেলবীজ প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে ওঠায় সন্তোষ প্রকাশ করে ভানলরুয়াতা জানান, কৃষকদের আরও এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে আরকেভিওয়াই-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি সমবায় সমিতিগুলিকে আরও শক্তিশালী করার উপরও জোর দেন। কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজনের দিকে সরকার আরও বেশি গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে আদার মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের চাহিদা ও সমস্যাগুলির সমাধানে সরকার কাজ করে যাবে। রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভানলরুয়াতা বলেন, এই ধরনের শিল্প কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে এবং তাঁদের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
ভোজ্য তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটিতে বিভিন্ন ধরনের তেলবীজ প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতর কেন্দ্রটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছে আইজল সিটি অয়েলসিড গ্রোয়ার্স অ্যান্ড প্রসেসিং কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-কে। এদিন কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরের একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়েছে।



















