গুয়াহাটি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): অসমের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রন্থাগারগুলিতে ফের নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। শিশুরা বই পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্টার্যাক্টিভ শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক পাঠাভ্যাসের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে গ্রন্থাগারগুলির পুনরুজ্জীবনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের বই ও পড়াশোনার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা হচ্ছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “অসমজুড়ে গ্রন্থাগারগুলি আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।” শিশুদের জন্য বই নিয়ে আলোচনা, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বইয়ের সংগ্রহ পরিবর্তন এবং হাতে-কলমে শেখার মতো নানা কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগগুলির ফলে খুদে পাঠকরা আকর্ষণীয় পরিবেশে নতুন গল্প, ভাবনা ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে। শুধু বেশি বই পড়ানোই নয়, শিশুদের মধ্যে এমন অভ্যাস গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বই নিয়ে আলোচনা, পরিবর্তনশীল বইয়ের সংগ্রহ এবং হাতে-কলমে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুরা উপলব্ধি করছে যে গল্প তাদের “সেরা বন্ধু” হতে পারে। তাঁর দাবি, গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক এই নতুন সংস্কৃতি শিশুদের আত্মবিশ্বাসী পাঠক, কৌতূহলী শিক্ষার্থী এবং স্পষ্টভাবে ভাবনা প্রকাশ করতে সক্ষম করে তুলছে।
শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার পরিসর বাড়াতে গ্রন্থাগার ও পাঠকেন্দ্রগুলিকে আরও কার্যকর করে তোলার উদ্যোগের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগের পাশাপাশি আলোচনা, কৌতূহল এবং স্বাধীনভাবে শেখার পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।
বই নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শিশুরা গল্প সম্পর্কে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে। অন্যদিকে, পর্যায়ক্রমে বইয়ের সংগ্রহ পরিবর্তনের ফলে তারা বিভিন্ন ঘরানা ও লেখকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হাতে-কলমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে এবং শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করছে।
এই উদ্যোগগুলি গ্রন্থাগারকে শুধুমাত্র বই পড়ার জায়গা হিসেবে নয়, বরং শিশুদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো এবং দীর্ঘস্থায়ী পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিসর হিসেবেও তুলে ধরছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রন্থাগারের পুনরুজ্জীবন কেবল পুরনো পরিকাঠামোকে ফিরিয়ে আনার বিষয় নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করাই লক্ষ্য, যেখানে শিশুরা বইয়ের আনন্দ আবিষ্কার করবে এবং পড়াশোনাকে আজীবন শেখার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে।
–আইএএনএস



















