আগরতলা, ২৬ আগস্ট: সিধাই থানাধীন সিমনা বিধানসভার বড়কাঁঠাল, বীরমোহন ও মোকামবাড়ি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২টি বালুর ঘাট থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এদিন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বন দপ্তরের একটি গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা একাধিকবার বন দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি বালুঘাট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের একাংশ অবৈধ বালু উত্তোলনে কার্যত প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর দাবি, নদী থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর পাড় ভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। পাশাপাশি বালুবাহী ভারী গাড়ির নিয়মিত চলাচলে স্থানীয় রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা বাদল গণ জানান, বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তাঁরা ইতিমধ্যে তিন-চারবার অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বড়কাঁঠাল থেকে সোনাই বাজার পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন অংশ বালুবাহী গাড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। বালুবাহী গাড়ির কারণে দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন বালুঘাট এলাকায় বন দপ্তরের কয়েকজন কর্মীকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা বালুঘাট থেকে মাসিক অর্থ সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁদের গাড়ি আটকে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বন দপ্তরের কর্মীরা সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীরা বালু উত্তোলনের সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে সিধাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন দ্রুত সমস্ত বালুঘাটের বৈধতা যাচাই করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করুক। পাশাপাশি নদী, কৃষিজমি ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
























