কলকাতা, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): আগামী মাসের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই নয়া শিল্পনীতিতে শিল্প স্থাপনের জন্য কেনা জমির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘ল্যান্ড ইউজ কনভার্সন’ বা জমির ব্যবহার পরিবর্তনের নিয়মে বাছাই করা কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব থাকতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।
রাজ্য সচিবালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, শিল্পনীতিতে এই বাছাই করা ছাড় কার্যকর হলে শিল্পোদ্যোগী বা সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলি শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে আইনসম্মতভাবে জমি কেনার পর সেই জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি জটিলতা থেকে রেহাই পেতে পারে।
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, কোনও শিল্প স্থাপনের জন্য একসঙ্গে বড় জমি কেনার পর দেখা যেতে পারে, সেই জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে জলাশয় রয়েছে। বর্তমানে সেই জলাশয়কে শিল্পের কাজে ব্যবহারের উপযোগী করতে জমির ব্যবহার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ওই আধিকারিকের কথায়, নতুন শিল্পনীতিতে ‘ল্যান্ড ইউজ কনভার্সন’-এর ক্ষেত্রে বাছাই করা ছাড় কার্যকর হলে এই ধরনের আইনি জটিলতা অনেকটাই কমতে পারে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্রের শিল্প স্থাপনের জন্য কেনা জমির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রকে এই ছাড়ের আওতায় না রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
নতুন শিল্পনীতিতে ‘বর্গা জমি’ শিল্পের জন্য অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক সহজ নিয়ম আনার প্রস্তাব থাকতে পারে বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট সময় ধরে অব্যবহৃত থাকা বর্গা জমি রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে জমির বর্তমান বাজারদর বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি হারে জমির মূল্য নির্ধারণ করে সেই অর্থ জমির মালিক ও বর্গাদারের মধ্যে সমান অনুপাতে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্গা জমি বলতে এমন জমিকে বোঝায়, যা দলিলের মাধ্যমে চাষির বা বর্গাদারের নামে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যেখানে নির্দিষ্ট নগদ খাজনার পরিবর্তে চাষি উৎপাদিত ফসলের একটি নির্ধারিত অংশ—সাধারণত অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ—জমির প্রকৃত মালিককে দিয়ে থাকেন। এই ধরনের জমি শিল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হলে জমির মালিক এবং বর্গাদার দু’জনেরই সরকারি ক্রয়মূল্যের উপর অধিকার থাকবে।
তবে শিল্পের জন্য আদিবাসী জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এখনও জটিল বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের ওই আধিকারিক। তাঁর মতে, আদিবাসী জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর। কোনওভাবেই এই জমি অ-আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। ফলে বেশ কিছু জেলায় সরকার শিল্পের জন্য এই জমি নিতে পারে না, আবার জমির মালিকরাও ইচ্ছা থাকলেও তা বিক্রি করতে পারেন না।
ওই আধিকারিক বলেন, আদিবাসী জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই আইনি জটিলতার তাৎক্ষণিক কোনও সমাধান এখনও সরকারের হাতে নেই। ফলে নতুন শিল্পনীতিতে জমি সংক্রান্ত একাধিক ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব থাকলেও আদিবাসী জমির বিষয়টি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়েছে।
–আইএএনএস



















