নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): জেন জি-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজেপি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার পরই শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, যুবসমাজের মন জয় করতে বিজেপি এখন ‘মরিয়া হয়ে তুষ্ট করার চেষ্টা’ করছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যুবক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, তাঁদের মতামত শোনা এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা।
ডিএমকে মুখপাত্র টিকে এস এলঙ্গোভান আইএএনএস-কে বলেন, বিজেপি বুঝতে পেরেছে যে যুবসমাজ তাদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন যুব আন্দোলন এবং তরুণদের উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সরকারকে সমস্যায় ফেলতে পারে। সেই কারণেই পরবর্তী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিজেপির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং যুবকদের তুষ্ট করতে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, “অনেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জন প্রশাসনে একটি কথা রয়েছে—কমিটি গঠন করাই অনেক সময় কোনও বিষয়কে পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত।”
তিনি সরকারকে যুবসমাজের বার্তা বোঝার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা চায়। কর্মসংস্থানের জন্য তারা একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা ও নিশ্চয়তা চায়। তাঁর মতে, এই দুটি বিষয়ই বিজেপির গঠিত কমিটির আওতার বাইরে।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়ের দাবি, “জেন জি-র বিজেপির উপর কোনও আস্থা নেই।”
অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আরপি সিং বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, দল দীর্ঘদিন ধরেই জেন জি-র সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিয়ে কাজ করে আসছে। বিজেপির যুব মোর্চাও নিয়মিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলে তিনি জানান।
আরপি সিং বলেন, “এখন দল জেন জি-র দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে তাদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যোগাযোগ করা যায় এবং তাদের মতামত বোঝা যায়।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলের নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের মতামত নেওয়া এবং সেই মতামত সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়ালও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম দেশের সামনে তুলে ধরেছিলেন যে ভারত একটি যুবশক্তির দেশ। এরপর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে তরুণদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির উল্লেখ করে খান্ডেলওয়াল বলেন, পরীক্ষার সময় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি বিজেপির নিজস্ব যুব সংগঠন ‘যুব মোর্চা’ও রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি কোনও নতুন উদ্যোগ নয়। বরং চলমান প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ। এর মাধ্যমে তরুণদের আরও কাছ থেকে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করা হবে।”


















