News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী
Image

সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৭ অক্টোবর: সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে সংযোগের বন্ধন সুদৃঢ় করা এই সেবা জ্যোতি যাত্রার মূল উদ্দেশ্য। দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দেশকে উন্নয়নের এক নতুন দিশায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আজ আগরতলার শিশু উদ্যান থেকে বিকশিত ভারত সংকল্প সভা – সেবা জ্যোতি যাত্রার সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সেবা জ্যোতি যাত্রা শুধু একটা কর্মসূচি নয়, এটা মানুষের কাছে সেবা, জনকল্যাণ এবং বিভিন্ন সরকারি জনমুখী উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার একটা প্রয়াস। মানুষের প্রতি সেবা ও সমাজে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনে আশার আলো পৌঁছে দেওয়া এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। এই আলো গ্রাম থেকে শহর এবং শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সেই আলোর সঙ্গে পৌঁছে যাবে সেবা, সংকল্প ও উন্নয়নের বার্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার যে স্বপ্ন আমাদের সামনে রেখেছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে মানুষের সঙ্গে চলতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বিকশিত ভারত মানে সামাজিক ন্যায় ও সমতা, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি। আমাদের যে ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও পরিবেশের সুরক্ষার সমন্বিত উন্নয়নই হচ্ছে বিকশিত ভারত। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। আর আমাদের সরকার ও পার্টি সেই দিশায় কাজ করছে। সংস্কার, সম্পাদন এবং রূপান্তর – এই মন্ত্র নিয়ে কাজ করছে সরকার। আমাদের মূল লক্ষ্য সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। উন্নয়নের যাত্রায় কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে সেটাও নিশ্চিত করা সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। আপনারা সকলেই জানেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ মাস ব্যাপী সেবা সংকল্প অভিযান শুরু হয়েছে। এবছরের জন্মদিন উদযাপনে একটা ভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। কারণ আজকের দিনে ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে জনসেবা করার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৩ বছর এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। গুজরাটকে তিনি দেশের অন্যতম মডেল রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই দীর্ঘ ২৫ বছরের যাত্রার তাঁর মূল দর্শন – জনসেবা হি প্রভু সেবা। অর্থাৎ জনগনের সেবা, ঈশ্বরের সেবা। এই ভাবনাকে সামনে রেখে ১২টি বিভিন্ন কর্মসূচি রেখেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পর্যায়ক্রমে এই সেবা কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আশীর্বাদ কা দিয়া কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছিল। এবং আজ সেবা জ্যোতি যাত্রায় অংশগ্রহন করেছি আমরা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য – গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে সংযোগের বন্ধন সুদৃঢ় করা। পাশাপাশি যুব সমাজকে সেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করাও অন্যতম উদ্দেশ্য।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা যে সংকল্প গ্রহণ করেছি, সেই সঙ্গে মশাল প্রজ্জ্বলন ও সেবা জ্যোতি মশাল নিয়ে সাইকেল ও বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমাদের রাজ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সেবা জ্যোতি চক স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনকে আমরা সবসময় সেবা পক্ষকাল হিসেবে উদযাপন করি। কারণ সেবা, সুশাসন, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ – এই ভাবনাগুলি তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। দীর্ঘ ২৫ বছরের দায়িত্ব পালনে জনসেবাকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। যা আমাদের সবার কাছে একটা অনুপ্রেরণা এবং অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনে ভারত উন্নয়নের এক উল্লেখযোগ্য যাত্রার সাক্ষী হয়েছে। উনার কার্যকালে দেশের ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার উপরে আনা হয়েছে। ৮০ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে রেশন প্রদান করা হয়েছে। ১০০ কোটি মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। কোভিডের সময়ে ২০০ কোটির অধিক কোভিড টিকা প্রদান করা হয়েছে। আর এটা কোন সাধারণ বিষয় নয়, বরং সকলের জন্য অনুকরণীয় একটা দিক। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে একটা বিরাট পরিবর্তন এসেছে। রেলওয়ে আধুনিকীকরণ, ডেডিকেটেড ফ্রেড করিডোর, ডজন খানেক বন্দে ভারত ট্রেন, বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ করা ইত্যাদি পরিকাঠামো নতুন ভারতের দিশায় এগিয়ে নিয়ে চলছে।

এদিন এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, পর্যটন ও পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী সহ ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

Releated Posts

রাজ্যে ১,৫০৭টি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত, গঠন হবে ত্রিপুরা স্টাফ সিলেকশন কমিশন : সুশান্ত চৌধুরী

আগরতলা, ৭ অক্টোবর: রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা। শিক্ষা, প্রাণিসম্পদ বিকাশ, আইন,…

ByByTaniya Chakraborty Oct 7, 2026

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের উন্নয়নের চিত্রে আমূল পরিবর্তন: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ৭ অক্টোবর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর অনুপ্রেরণার উৎস। বুধবার ধলাই…

ByByTaniya Chakraborty Oct 7, 2026

জেল পুলিশের নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবিতে ডেপুটেশন

আগরতলা, ৭ অক্টোবর : অতিসত্বর জেল পুলিশের নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবিতে আইজির নিকট ডেপুটেশনে মিলিত বিক্ষোভ…

ByByTaniya Chakraborty Oct 7, 2026

ওআইসির বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের’ অভিযোগ ভারতের, সন্ত্রাসের শিকার ও অপরাধীর পার্থক্য করতে ব্যর্থ: বিপ্লব

রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): সন্ত্রাসের শিকার ও সন্ত্রাসের অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে ইসলামিক সহযোগিতা…

ByByTaniya Chakraborty Oct 7, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top