আগরতলা, ৭ অক্টোবর: ত্রিপুরায় বিজেপি-তিপ্রা মথা জোট নিয়ে ফের প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখা দিল বিজেপির অন্দরেই। দলের কার্যকর্তাদের ‘বিচার না পাওয়া’ এবং নেতৃত্বের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপির হয়ে আর কাজ না করার ঘোষণা দিলেন শান্তিরবাজারের একদল বিজেপি নেতা-কর্মী। একইসঙ্গে তিপ্রা মথার সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। বুধবার ফের মনপাথর ফাঁড়ি এলাকায় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও কোনও সমস্যায় পড়লে কার্যকর্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না দলের নেতারা। নিজেদের বিভিন্ন অভিযোগের কোনও বিচার না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ বলেও জানান।
বিক্ষোভকারীদের এক সদস্য বলেন, ২০১৬ সাল থেকেই তাঁরা বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন এবং দলকে মন থেকে ভালোবাসেন। তবে দলের কার্যকর্তা হিসেবে সমস্যায় পড়ার পরও নেতৃত্বের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় তাঁরা আর দলের হয়ে কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিজেপির প্রতি তাঁদের সম্মান রয়েছে এবং দলের পতাকা তাঁরা যথাযোগ্য মর্যাদায় নিজেদের কার্যালয়ে রেখে দেবেন বলেও জানান।
তাঁদের অভিযোগ, তিপ্রা মথার সঙ্গে জোটের কথা বলে বারবার তাঁদের আশ্বস্ত করা হলেও অতীতে বিজেপির কার্যকর্তাদের উপর হামলার অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও বিচার পাননি তাঁরা। ‘জোট’ দেখিয়ে তাঁদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কার্যকর্তাদের অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন। সেই কারণেই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
এদিন তিপ্রা মথার সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়ার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তিপ্রা মথার দুই মন্ত্রীকে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁদের মতে, জোট শেষ হলে রাজ্যে শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তাঁরা মানুষের পক্ষেই কাজ করতে চান। কিন্তু তাঁদের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এল বিজেপির তৃণমূল স্তরের কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ। তাঁদের এই বিক্ষোভ এবং জোট ভাঙার দাবি আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে মোকাবিলা করে, এখন সেটাই দেখার।



















