নয়াদিল্লি, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নিতিন নাবিন শনিবার রাজধানীর বিজেপি সদর দফতরে দলের সদ্য নিযুক্ত জাতীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে কর্মসূচি আয়োজন—বৈঠকে এই বিষয়গুলিই বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দিনভর চলা এই সাংগঠনিক বৈঠকে তিনটি পৃথক অধিবেশন রয়েছে। প্রথমে নতুন পদাধিকারীদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব এবং তাঁদের দায়িত্ব ও প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং দলের অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
নতুন পদাধিকারীদের তাঁদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা, নিয়মিত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে।
বিভিন্ন পদাধিকারীকে দেওয়া দায়িত্বও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হতে পারে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
আগামী বছর সাতটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। নাবিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক, রাজ্যগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণও এই সাংগঠনিক বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোদি। প্রায় ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক নির্বাহী পদে রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ১২ বছরও পূর্ণ করেছেন।
গত ১৭ আগস্ট নিতিন নাবিনের নেতৃত্বে বিজেপি ৬৫ সদস্যের নতুন জাতীয় দল ঘোষণা করে। এই দলে ৫১ জন নতুন মুখ রয়েছেন, যা দলের জাতীয় সংগঠনে বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
শনিবারের বৈঠকের মাধ্যমে নতুন জাতীয় টিমকে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হল।
—আইএএনএস


















