আগরতলা, ৬ অক্টোবর: গোলাঘাটি বিধানসভার কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতে মঙ্গলবার শিববাড়ি নাটমন্দিরে অনুষ্ঠিত হল অঙ্গন মিলন সভা। সভায় অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকাদের ভূমিকা, শিশুদের পরিচর্যা এবং বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশালগড় ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, ১৭ গোলাঘাটি মণ্ডলের মণ্ডল সভাপতি নারায়ণ দেবনাথ, ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মৌসুমী দাস-সহ অন্যান্যরা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকারা শুধু শিশুদের খাবার দেওয়া বা পড়াশোনার দেখভাল করেন না, তাঁরা একটি পরিবারের মতো শিশু এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। কোনও শিশু অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে না এলে তার খোঁজ নেওয়া, শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নজর রাখা এবং পরিবারের কোনও সদস্য অসুস্থ হলে তার বিষয়েও খোঁজ নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁরা করেন।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় শিশুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেক সময় তাদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। তাই অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকাদের শিশুদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও সুন্দর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, অনেক সময় শারীরিক গঠন দেখে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এর ফলে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে মা হলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে ছেলেদেরও ২১ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে পরিবারকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা যাতে ঠিকভাবে হয়, সেদিকেও অভিভাবকদের নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। অঙ্গন মিলন মেলার মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের অন্নপ্রাশন এবং গর্ভবতী মায়েদের সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিমা ভৌমিক বলেন, একটি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একাধিক অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকারা একসঙ্গে পরিবারের মতো কাজ করলে শিশু ও মায়েদের আরও ভালোভাবে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, শক্তিশালী মা ও সুস্থ পরিবারই শক্তিশালী সমাজ ও দেশের ভিত্তি।
























