আগরতলা, ৬ অক্টোবর: আগরতলা পুর নিগমের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর যোগেন্দ্রনগরে প্রস্তাবিত নতুন ওয়ার্ড অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র দীপক মজুমদারের হাত ধরে এই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নন্দদুলাল দেবনাথসহ পুর নিগমের অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
প্রস্তাবিত নতুন ওয়ার্ড কার্যালয়টি আরসিসি জি + ১ কাঠামোতে নির্মাণ করা হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, আগরতলা পুর নিগমের নাগরিক পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও গতিশীল করাই পুর নিগমের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
পুর নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১ থেকে ২০২৬—গত পাঁচ বছরে আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল, নিরাপদ আবাসন, বাজারের আধুনিকীকরণ, শিশুদের জন্য উন্নত পরিবেশ এবং অন্যান্য নাগরিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
জল জমার সমস্যা মোকাবিলা এবং নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে ২৩টি সিসি নর্দমা, ২১টি ড্রেন এবং ৮টি আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি ড্রেনের সঙ্গে ফুটপাত নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে একদিকে যেমন নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হবে, অন্যদিকে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধাও বাড়বে।
এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে মাটি ধস ও পরিকাঠামোগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ৬টি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। পানীয় জলের পরিষেবা সম্প্রসারণেও নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যে ১৫টি মিনি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি জল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে ৮টি মিনি ডিপ টিউবওয়েল পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করা হয়েছে।
নিরাপদ আবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ১.০ এবং ২.০-এর মাধ্যমে বহু পরিবারকে পাকা ও নিরাপদ বাড়ির সুযোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। পুর নিগমের বক্তব্য, একটি বাড়ি শুধু বসবাসের স্থান নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।
এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র মনকুমারী টাউন হলেরও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টাউন হলের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। শিশুদের জন্যও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিশু উদ্যানের উন্নয়ন করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মনকুমারী বাজারের আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে বৃদ্ধাশ্রম বাজারের আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ভিত্তিতে মধ্যপাড়ায় খাওড়া নদীর পাড়ে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নদীর ঘাট নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম পাড়া, অগ্রদূতপাড়া, খোদিরামপাড়া, মনকুমারীপাড়া, মহাশক্তিপাড়া, কালাচাঁদপাড়া, মধ্যপাড়া, নিশানপাড়া, রোধানপাড়া ও নমুদয়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।
পুর নিগমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই প্রকল্পগুলি শুধু পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি কাজের সঙ্গে এলাকার মানুষের প্রয়োজন, প্রত্যাশা এবং উন্নত জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে রয়েছে। নাগরিকদের চাহিদাকে সামনে রেখে কাউন্সিলর নন্দদুলাল দেবনাথের নেতৃত্বে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আগামী দিনে আরও উন্নত রাস্তা, কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানীয় জল, আধুনিক বাজার, উন্নত নাগরিক পরিকাঠামো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিক উন্নয়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















