আগরতলা, ৬ অক্টোবর: জনজাতি এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বেসরকারি স্কুলে অভিভাবকদের সন্তানদের ভর্তি করানোর প্রবণতার জন্য অভিভাবকদের দায়ী করা সমস্যার সমাধান নয় বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক ঘাটতি দূর করার উপর জোর দিয়েছে আদালত।
আদালত বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোর পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করেছে। ইউডাইস ২০২৫-২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৪,১৪৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ৪,০৪৮টি বিদ্যালয়ে পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ৯০ শতাংশ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য এবং ৯২ শতাংশ বিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলিতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং শৌচাগারের যে ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করে ১০০ শতাংশ পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত একই সঙ্গে আদিবাসী এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে শুধুমাত্র পরিকাঠামোর উন্নয়ন বা ভর্তি অভিযান চালিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
আগামী ১৬ নভেম্বর, ২০২৬ মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে। ওই দিন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের পাল্টা হলফনামা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-পরিসংখ্যান আদালত পর্যালোচনা করবে।
ফলে আদিবাসী এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি এখন আদালতের সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে। বিদ্যালয়গুলির ঘাটতি পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আদালতের এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















