কলকাতা, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খড়দহে তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় দুই স্থানীয় বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সংঘর্ষের পর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত খড়দহ এলাকায় এই সংঘর্ষে তিনজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রহড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে বিজেপি কর্মীরা থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খড়দহ বিধানসভা এলাকার পাতুলিয়া অঞ্চলের একটি মৎস্যচাষ কেন্দ্র থেকে কথিত তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। সোমবার রাতে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষের আকার নেয়। সংঘর্ষের সময় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে স্থানীয় বিজেপির একাংশ এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হিসেবে মানতে নারাজ। বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল কুমার দাসের দাবি, মৎস্যচাষ কেন্দ্র থেকে কথিত তোলাবাজিকে কেন্দ্র করেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল।
দাস অভিযোগ করেন, খড়দহ মণ্ডল-৩-এর সহ-সভাপতি হিমাদ্রি শিকদার ওই মৎস্যচাষ কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে টাকা আদায় করতেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিকদারের কাছে প্রশ্ন তুললে প্রথমে বচসা এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় বলে তাঁর দাবি। পরে সংঘর্ষ জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে বোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, কথিত তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহতদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রতিপক্ষের লোকজন বোমা ছোড়ে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে রহড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে থানার সামনে বিজেপি কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ এরপর ইন্দ্রনীল দাস ও হিমাদ্রি শিকদারকে গ্রেফতার করে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হিংসার ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। হিমাদ্রি শিকদারের সমর্থকদের দাবি, ইন্দ্রনীল দাস নিজেকে বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে যারা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতেন, তাঁরাই এখন বিজেপির নাম ব্যবহার করে তোলাবাজি করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্দ্রনীল দাস দাবি করেন, তিনি কোনওদিন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেননি। তিনি জানান, রাজ্যের মন্ত্রী কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মৎস্যচাষ কেন্দ্র থেকে টাকা আদায় করছিলেন হিমাদ্রি শিকদার এবং বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁকে হস্তক্ষেপ করে তা বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছিল।
ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং বোমা ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



















