আগরতলা, ৬ অক্টোবর: দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে জোটসঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলির উপর নির্ভর করতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেও ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত প্রায় ১৪ জন নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর মতে, এই ফলাফল কংগ্রেসের রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে।
এডিসি তথা পাহাড়ি এলাকায় কংগ্রেসের খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না বলে জানান সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় কংগ্রেস দুর্বল ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে জোটসঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলির উপর নির্ভর করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘কখনও পিউজেস, কখনও আইএফটি, কখনও আইএনপিটি, কখনও টিএনভি, এই সমস্ত রাজনৈতিক দলের উপর আমরা নির্ভরশীল ছিলাম। এখন আমরা সবে হাঁটতে শুরু করেছি।’
তবে এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী এবং কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস সমর্থিত প্রায় ১৪ জন নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বলে হিসাব সামনে এলেও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২২ জন কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। তাঁদের অনেকেই শীঘ্রই কংগ্রেসে যোগ দেবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল নিয়েও সরব হন সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর দাবি, বিজেপি এককভাবে প্রায় ১৮.৭ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে। সেই কারণেই বিজেপি নিজেদের আসনসংখ্যা না বলে বারবার ‘এনডিএ’ হিসাবে ফলাফল তুলে ধরছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, তিপরা মথা কিন্তু তাদের জয়কে এনডিএর জয় হিসেবে প্রচার করছে না। তারা নিজেদের দলীয় ফলাফল হিসেবেই ত্রিপুরা মথার জয় তুলে ধরছে। বিজেপি ও আইপিএফটি-র সম্ভাব্য বিজয় মিছিল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় ১৯ শতাংশ আসনে জয় পাওয়ার পর সেটিকে বড় করে তুলে ধরে মানুষের সামনে একটি ‘ভুল বয়ান’ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে কোনও রাজনৈতিক দলের বিজয়কে খাটো করে দেখছেন না বলেও স্পষ্ট করেন সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর বক্তব্য, ‘যারা জয়লাভ করেছেন, রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে তাঁদের সবাইকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।’
অন্যদিকে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস এককভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। সিপিএমের এককভাবে নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, বামেরা গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এককভাবে লড়াই করেছিল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেনি। একই সঙ্গে রামনগর, বক্সনগর ও ধর্মনগরের মতো আসনে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি মেনে প্রার্থী দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রামনগরকে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দখলের আসন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দল প্রার্থী দেয়নি। ধর্মনগরেও আলোচনার মধ্যে অন্য পক্ষ প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী দেয়নি। তবে এবার বামেরা যদি এককভাবে লড়াই করতে চায়, তাহলে কংগ্রেসও একাই নির্বাচনে লড়বে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বামেরা পুরসভা নির্বাচনে সমস্ত আসনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আগামী পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএমের পৃথকভাবে লড়াইয়ের সম্ভাবনাই আরও জোরালো হচ্ছে।



















