আগরতলা, ৫ অক্টোবর: তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খোয়াই মহকুমার তুলাশিখর আরডি ব্লকের চাম্পাহাওর এলাকা। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিপ্রা মথার এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে জিবি হাসপাতালে। মৃতের নাম মতিলাল সরকার। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে গুলতির আঘাতে ডিএসপি অর্ঘ্যদ্বীপ লস্কর-সহ একাধিক পুলিশ ও টিএসআর জওয়ান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। তুলাশিখর ব্লকের এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনার জন্য চাম্পাহাওর বাজার সংলগ্ন ভারত সরদার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে গণনাকেন্দ্র করা হয়। গণনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
অভিযোগ, এদিন সকালে সিপাইহাওর এলাকায় খোয়াই-চাম্পাহাওর মূল সড়কের উপর গাছ ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। একইভাবে চাম্পাহাওর চৌমুহনি বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তাতেও বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখা হয় বলে জানা যায়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এরপর গণনাকেন্দ্রের সামনে তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ গণনাকেন্দ্রের সামনে থাকা আইপিএফটি কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।
এই সংঘর্ষের সময় তিপ্রা মথার কর্মী মতিলাল সরকার পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মতিলাল সরকারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
মৃতের স্ত্রী জানান, ঠিক কীভাবে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তবে পুলিশের লাঠির আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন তাকে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই খবর পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কানেও। এই বিষয়ে নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোট গণনা চলাকালীন সেখানে চাম্পাহাওর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেখানে ইট পাটকেল ছড়া হয়। প্রতিরোধে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। তখনই সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখনই পদপৃষ্ঠ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওই মথা কর্মী। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর।
এদিকে, ভোট গণনা চলাকালীন দুপুরের দিকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চাম্পাহাওর এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে গুলতি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। গুলতির আঘাতে ডিএসপি অর্ঘ্যদ্বীপ লস্কর-সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও টিএসআর জওয়ান আহত হন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মথা কর্মীর মৃত্যু এবং পুলিশকর্মীদের আহত হওয়ার বিষয়টি ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে।



















