নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): দিল্লি-এনসিআরে সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের ঘটনাগুলি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সোমবার দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চার সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ মৌখিকভাবে জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেঞ্চ জোর দিয়ে বলে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপরিসরে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নয়, বাস্তবে তা কার্যকর করতে হবে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, দিল্লি-এনসিআরের প্রতিটি নারী যেন রাত ১১টাতেও রাস্তায় বা মেট্রোতে যাতায়াতের সময় নিরাপদ বোধ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত প্রশ্ন তোলে, সিসিটিভি বসানো হলেও যদি নিয়মিত নজরদারি না থাকে, তাহলে তার কার্যকারিতা কতটা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলির ধারাবাহিক নজরদারির কোনও ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনও বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ রয়েছে কি না, তাও জানতে চায় আদালত।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে এমন ভয় তৈরি করতে হবে যে অপরাধ করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। পুলিশের কাজ শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, অপরাধ যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করাও।
গত ২৮ সেপ্টেম্বরের আদেশে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআরের জনপরিসরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পার্ক, রাস্তা, বাস, মেট্রো স্টেশন, সাবওয়ে ও ফুটব্রিজের মতো জায়গাগুলি অপর্যাপ্ত আলো, দুর্বল নজরদারি বা ঢিলেঢালা টহলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছিল আদালত।
আদালত ন্যাশনাল ডেটাবেস অন সেক্সুয়াল অফেন্ডার্স (এনডিএসও), ইনভেস্টিগেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম ফর সেক্সুয়াল অফেন্সেস (আইটিএসএসও), মিশন শক্তি, জরুরি পরিষেবা, মহিলা হেল্পলাইন, সিসিটিভি, মহিলা হেল্প ডেস্ক এবং ওয়ান স্টপ সেন্টারগুলির কার্যকারিতা নিয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের প্রতিটি জেলায় বিশেষ দল গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, জেলা ভিত্তিক ভলনারেবিলিটি ম্যাপ তৈরি, আলো ও সিসিটিভি পরিকাঠামোর অডিট এবং চিহ্নিত এলাকায় টহল বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
দিল্লি-এনসিআরে একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই মামলা শুরু হয়। এর মধ্যে আস্তা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছরের এক কিশোরীর কথিত গণধর্ষণ এবং গ্রেটার নয়ডা থেকে দিল্লিগামী একটি চলন্ত স্লিপার বাসে এক নাবালিকার যৌন নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটির সঙ্গে ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের বেদনাদায়ক সাদৃশ্য রয়েছে বলেও আদালত মন্তব্য করেছিল।
মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ নভেম্বর তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।



















