অযোধ্যা, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): সংস্কৃত ভারতের জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে এবং এখনও এই ভাষার বিশ্বকে পথ দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার অযোধ্যায় নবনির্মিত শ্রী নারায়ণ সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সংস্কৃত ও বৈদিক গণিতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাজনাথ সিং বলেন, সংস্কৃত সম্পর্কে তাঁর বিশেষজ্ঞ জ্ঞান না থাকলেও এই ভাষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। ভারতের জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংস্কৃতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং এখনও বিশ্বকে পথ দেখানোর সম্ভাবনা এই ভাষার রয়েছে।
১৯৯১ সালে উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময় তৃতীয় হিন্দি প্রশ্নপত্রটি অর্ধেক হিন্দি ও অর্ধেক সংস্কৃতে ছিল। তিনি সেটিকে সম্পূর্ণ সংস্কৃত করার এবং বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সরকার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় তিনি এখনও ব্যথিত বলে জানান।
তাঁর আমলে বৈদিক গণিত চালু করার কথাও উল্লেখ করেন রাজনাথ। পদার্থবিদ্যা, গণিত ও রসায়নের ছাত্র হিসেবে তিনি বলেন, বৈদিক গণিত এখনও অতুলনীয়।
অযোধ্যার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি অযোধ্যাকে শুধুমাত্র তীর্থস্থান হিসেবে দেখেন না। তাঁর কাছে অযোধ্যা একাধারে চেতনা, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার প্রতীক। তাঁর কথায়, পূর্ব দিক থেকে সূর্য যেমন গোটা পৃথিবীকে আলোকিত করে, তেমনই ধর্ম, ন্যায় ও মর্যাদার আলো অযোধ্যা থেকে ভারত এবং গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংস্কৃত ও গণিতের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্বের গাণিতিক ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তিনি এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারেন।
এর আগে সোমবার অযোধ্যায় রামমন্দিরে গিয়ে রামলালার দর্শন করেন রাজনাথ সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, শ্রী রামলালা ও শ্রী হনুমানজির দর্শন পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। দেশের অগ্রগতি ও মানুষের কল্যাণের জন্য প্রার্থনাও করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হনুমানগড়িতেও গিয়ে পুজো দেন এবং অযোধ্যা সফরে শ্রী গুরু পূর্ণিমা মহামহোৎসবে অংশ নেন।



















