কলকাতা, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিকিৎসা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় রোগী-চিকিৎসক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এসএসকেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের তিন শীর্ষ চিকিৎসককে আইনি নোটিস পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ।
নোটিস পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম-এর ডিরেক্টর ডা. মনিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙ্গুর ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট তথা ভাইস-প্রিন্সিপাল ডা. পীযূষ কুমার রায় এবং নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অতনু বিশ্বাসকে।
আইনি নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা রিপোর্টের ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রোগীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁর আইনজীবী।
নোটিসে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি ছাড়া অথবা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই আইনি নোটিস এমন সময় দেওয়া হল, যখন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগা এবং ফ্র্যাকচারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভেন্দু অধিকারী বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের ২০২১ সালের ১১ মার্চের একটি রেডিওডায়াগনসিস রিপোর্টের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই রিপোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ফ্র্যাকচারের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ৯ অক্টোবর প্রকাশের পর এই বিষয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করা হবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কুণাল ঘোষ ওই রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজ্য সরকার বিজেপির হওয়ায় রিপোর্টটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করে না বলেও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন তিনি।
এর দু’দিন পর সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী তিন চিকিৎসককে আইনি নোটিস পাঠান। চিকিৎসা নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মমতার আইনজীবী ভবিষ্যতে তাঁর ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা’ যাতে লঙ্ঘিত না হয় এবং ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ যাতে ছড়ানো না হয়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অল্প ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন। নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হওয়ার পর প্লাস্টার করা পা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে প্রচার করেছিলেন।



















