রায়পুর/নারায়ণপুর, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): ছত্তিশগড়ের স্পর্শকাতর আবুজমাড় এলাকায় নারায়ণপুর পুলিশ এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ২৯তম ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে সাতটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলির মধ্যে ছয়টি প্রেসার কুকার আইইডি এবং একটি পাইপ বোমা আইইডি রয়েছে।
সোমবার এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নারায়ণপুরের পুলিশ সুপার সন্দীপ কুমার প্যাটেল, আইটিবিপি ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট অভিষেক সুদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) অক্ষয় সাবদ্রা নেতৃত্ব দেন।
নিরাপত্তা বাহিনী আবুজমাড়ের রাইনর ক্যাম্প থেকে ম্যাকসোলি-বাটবেদা-রাইনর এলাকা পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশি ও এলাকা স্যানিটাইজেশন অভিযান চালায়। বাটবেদা এলাকায় তল্লাশির সময় নিরাপত্তাকর্মীরা কয়েকটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি ঘিরে ফেলে আশপাশে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।
এরপর একটি সন্দেহজনক ডাম্প থেকে ছয়টি প্রেসার কুকার আইইডি এবং একটি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বেশ কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মাল্টিমিটার, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি সোল্ডারিং তার, একটি সোল্ডারিং আয়রন এবং তিনটি গাড়ি খোলার চাবি রয়েছে।
বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে ঘটনাস্থলেই উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি নিরাপদে ধ্বংস করেন। সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মোহনের নেতৃত্বে ওই দলটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ সম্পন্ন করে।
পুলিশ ও আইটিবিপি-র মধ্যে সমন্বয়, ধারাবাহিক নজরদারি এবং যৌথ অভিযানের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। আবুজমাড়ের দুর্গম ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি এবং বিস্ফোরক মজুতের সম্ভাবনা শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
আধিকারিকদের মতে, একসঙ্গে একাধিক প্রস্তুত আইইডি এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলেও তাঁরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা অস্বাভাবিক গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত নিকটবর্তী পুলিশ বা নিরাপত্তা চৌকিতে খবর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।



















