কলকাতা, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির তাণ্ডবে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ঝাড়খণ্ডের একটি জঙ্গল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম কানাই কোনাই। তিনি কাবিলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের একটি জঙ্গল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে শিশু-সহ অধিকাংশকেই সিউড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার আচমকাই হিংস্র হয়ে ওঠেন কানাই। এরপর লাঠি, বাঁশের লাঠি এবং কুড়াল নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে যাকে সামনে পেয়েছেন, তাঁকেই আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।
পাশের গ্রামের এক বাসিন্দাও কাবিলাসপুরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। কানাই তাঁর মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম ইব্রাহিম শেখ, বয়স ৪৮ বছর।
এই ঘটনায় মহিলা, শিশু ও প্রবীণ-সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সিউড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
আক্রান্ত এক মহিলা জানান, তিনি বাড়িতে রান্না করছিলেন। সেই সময় কানাই আচমকা হাতে লাঠি ও কুড়াল নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে তাঁকে মাথায় আঘাত করেন। তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও হামলার শিকার হন বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পরও বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় কাটেনি।
মৃত ইব্রাহিম শেখের ভাইপো কামাল শেখ জানান, তাঁর কাকা কাজের জন্য রাহা গ্রাম থেকে কাবিলাসপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কানাই আচমকা তাঁর মাথায় আঘাত করেন। খবর পেয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলার পর কানাই গ্রাম ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। বীরভূম জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কাবিলাসপুরে পৌঁছলেও ততক্ষণে অভিযুক্ত পালিয়ে গিয়েছিলেন।
এরপর পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করে এবং গ্রামের বিভিন্ন প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে কানাইকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।



















