নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদের মধ্যেই কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, অতীতে কংগ্রেসই একাধিকবার ‘ডুপ্লিকেট ভোটার’ বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিল। এখন সেই প্রক্রিয়াই বাস্তবায়িত হওয়ায় কংগ্রেস তার বিরোধিতা করছে।
এক সাংবাদিক বৈঠকে সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের নির্বাচনী পরাজয়ে জর্জরিত কংগ্রেসের ‘গান্ধী পরিবার’ গণতন্ত্রের আড়ালে রাজতন্ত্র চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার সেই কংগ্রেসের নেতৃত্বেই আকাশবাণী ভবনে ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধী অতীতে বিভিন্ন সময়ে ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট ভোটারের বিষয়টি তুলেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেন, কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতাও ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির একাধিক নাম থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ত্রিবেদীর প্রশ্ন, “তখন কংগ্রেস নেতারা সত্যি বলছিলেন, নাকি এখন সত্যি বলছেন?” তাঁর অভিযোগ, “আগে কংগ্রেস নেতারা ডুপ্লিকেট ভোটার সরানোর দাবি করেছিলেন। এখন যখন তা করা হচ্ছে, তখন তারাই প্রক্রিয়াটিকে দোষ দিচ্ছেন।”
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে’ বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তারও পাল্টা জবাব দেন তিনি। বিজেপি সাংসদের দাবি, ওই সংখ্যার মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মৃত ভোটার এবং প্রায় ১ কোটি ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, মৃত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের কীভাবে ভোটার তালিকায় রাখা সম্ভব?
রেশন কার্ড এবং মনরেগা কার্ড বিতরণেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ত্রিবেদী। তাঁর দাবি, সেখানেও অনিয়ম ধরা পড়েছিল। তাঁর অভিযোগ, অবৈধভাবে ওইসব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদেরই এখন ‘মৃত ও ডুপ্লিকেট’ ভোটারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও তদন্ত ছাড়াই ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং নকল’ অর্থাৎ অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে কংগ্রেস কাদের সুবিধা দিতে চাইছে?
বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, ২০০৩ সালের আগের এসআইআরের সময়ই ২২৮টি লোকসভা আসন থাকা রাজ্যগুলিতে কংগ্রেস ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার বহু বছর আগেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক দুরবস্থা তৈরি হয়েছিল এবং তার জন্য কংগ্রেসকেই দায়ী করা উচিত।
রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী প্রচার নিয়েও কটাক্ষ করেন ত্রিবেদী। তিনি প্রশ্ন করেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধী কখনও কোনও রাজ্যে টানা এক-দুই সপ্তাহ থেকেছেন কি না। তাঁর কটাক্ষ, “একজন নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি এখন ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলছেন।”
মঙ্গলবারের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনেও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, কংগ্রেস যেহেতু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তারা কি ভোটার তালিকা পরীক্ষা করেছে? সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করারও সময় পাবে বলে উল্লেখ করে ত্রিবেদী জানতে চান, কংগ্রেস সব ব্যবস্থা করেছে কি না, নাকি এক বছর পর রাস্তায় নেমে নাটক করবে।
কংগ্রেস ‘প্রকৃত গণতন্ত্র মেনে নিতে পারছে না’ বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, সেই কারণেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
–



















