নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদের মধ্যেই বিজু জনতা দল (বিজেডি)-র সাংসদ সুলতা দেও অভিযোগ করেছেন, ওড়িশায় এস আই আর প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭.৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, গণতন্ত্রে মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নেন, কিন্তু বর্তমানে তার উল্টোটা হচ্ছে—নেতারাই ঠিক করছেন কারা ভোট দিতে পারবেন।
সুলতা দেও বলেন, “ভদ্রক জেলার ধামনগরে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে একজন বিএলও আপত্তি জানিয়ে সামনে এসে কী ঘটছে তা জানিয়েছিলেন। এরপর ইআরও-কেও সাসপেন্ড করা হয়। ওড়িশায় এস আই আর-এর মাধ্যমে প্রায় ২৭.৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সারা দেশে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এটা কী ধরনের গণতন্ত্র? এটা কোনওভাবেই গণতন্ত্র নয়।”
তিনি বলেন, বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়েকের মূল লক্ষ্য ওড়িশার মানুষের পাশে থাকা। ইন্ডিয়া জোট বা এনডিএ—কোনও জোটের সঙ্গেই বিজেডি নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।
সুলতা দেও আরও অভিযোগ করেন, “গণতন্ত্রে মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নেন। কিন্তু এখন কী হচ্ছে? নেতারাই ঠিক করছেন কারা তাঁদের ভোট দেবেন। কেউ কোনও নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করলে তাঁর নাম থাকবে, আর সমর্থন না করলে নাম বাদ দেওয়া হবে। এর আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি।”
এস আই আর নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিজেডি সাংসদ। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার আগে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টকে সঙ্গে রেখেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, নির্বাচন কমিশন এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জ্ঞানেশ কুমার আর কত মিথ্যা বলবেন?” মার্চ মাসে নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিলের পরিবর্তে বিজেপির সিল থাকার বিতর্কের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সুলতা দেও অভিযোগ করেন, “পুরো ব্যবস্থাটিই ফাঁপা। সিইসি জ্ঞানেশ কুমার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানেননি এবং তাঁর দুই সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর সঙ্গেও সহযোগিতা করেননি। তিনি কার কথা শুনছিলেন? কোন স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করছিলেন? বিজেপি দফতর থেকে আসা স্মারকলিপিতে?”
ধামনগরের একটি ওয়ার্ডে ২২৭ জন সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এই ধরনের পদক্ষেপের প্রতিবাদেই তাঁদের মিছিল বলে জানান সুলতা দেও। তাঁর দাবি, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নবীন পট্টনায়ক এই প্রথম করছেন না এবং “পুরো ভোট ব্যবস্থাই কারচুপির শিকার”।
এদিন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা তেরঙ্গা ও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে এগিয়ে যান। সিইসি, বিজেপি ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা। পরে তাঁদের ইসিআই সদর দফতরের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা ধর্নায় বসেন।



















