নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ও তার আশপাশে মাংস বিক্রি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। শনিবার ভিএইচপির আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার জানিয়েছেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মাংস বিক্রি বা খাবার নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে এক সদস্য সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান।
আইএএনএসকে অলোক কুমার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আয়োজন সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জারি করেনি। আমরা জানি, এই ধরনের নির্দেশ জারি করার কোনও অধিকার আমাদের নেই এবং আমরা এমন কোনও দাবি করি না।”
তিনি জানান, বিভিন্ন বড় উৎসবের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভিএইচপি বৈঠক করে। দিল্লিতে রামলীলার প্রায় দু’মাস আগে রামলীলা কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক হয়। একইভাবে বাংলায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরি করা উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও ভিএইচপি একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
অলোক কুমার বলেন, “আমরা মনে করি, দেবী দুর্গার আরাধনা ঐতিহ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং পুজোর মণ্ডপের পরিবেশ ভালোবাসা ও ভক্তিতে পরিপূর্ণ থাকা উচিত। এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। উদ্যোক্তারা যা সঠিক মনে করবেন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করবেন।”
ভিএইচপি প্রধান আরও স্পষ্ট করে বলেন, ওই বৈঠকে নিরামিষ, আমিষ বা কোনও ধরনের খাবার নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।
তাঁর কথায়, “ওই বৈঠকে নিরামিষ, আমিষ বা কোনও ধরনের খাবারের কথা বলা হয়নি। পরে সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজি (স্বামী নির্গুণানন্দ) মণ্ডপের ভিতরে খাবারের স্টলগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য একটি ভালো পরামর্শ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”
অলোক কুমার জোর দিয়ে বলেন, বাংলার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নিরামিষ বা আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা বা মতামত সংগঠনের বৈঠকে জানানো হয়নি। স্বামী নির্গুণানন্দ সংবাদ সম্মেলনে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন বলেও তিনি জানান।
তাঁর বক্তব্য, “তাই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নিরামিষ বা আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনও নির্দেশিকা নেই এবং বৈঠকে এই বিষয়ে কোনও মতামতও জানানো হয়নি। স্বামীজি সংবাদ সম্মেলনে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সেটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রচার করা ঠিক নয়।”
তবে পুজোর মণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং ঐতিহ্য মেনে চলার উপর জোর দেন ভিএইচপি প্রধান।
তিনি আরও জানান, দুর্গাপুজোর কোনও একটি দিনে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়া এবং ভারতমাতার পুজোরও পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
—আইএএনএস



















