আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: ঋণ পরিশোধ করে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেওয়ার পরেও বকেয়া ঋণের নোটিশ পাওয়ার অভিযোগে মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থার অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন একাধিক গ্রাহক। মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী থানার অন্তর্গত সিদ্ধি আশ্রম এলাকায় একটি মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থার ব্রাঞ্চ অফিসে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে হয় আমতলী থানার পুলিশকে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, সিদ্ধি আশ্রম এলাকার ভিলেজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নামের একটি মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থা থেকে তারা বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে সংস্থার কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করেন তারা। কিন্তু পরবর্তীতে ওই গ্রাহকদের কাছে ফের নোটিশ পাঠিয়ে জানানো হচ্ছে যে তাদের ঋণের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়নি।
গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, ঋণ পরিশোধ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট নথিতে বকেয়া দেখানোর কারণে তাদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ‘সিভিল’ খারাপ দেখাচ্ছে। ফলে ব্যাংক কিংবা অন্যান্য আর্থিক সংস্থা থেকে নতুন করে ঋণ নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তারা।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য গত কয়েক মাস ধরে সংস্থার সিদ্ধি আশ্রমের ব্রাঞ্চ অফিসে আসা-যাওয়া করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। কারও অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনও ফল পাননি। আবার কেউ ছয় মাস, কেউ তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরছেন। তারপরও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার ফের কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক সমস্যার সমাধানের দাবিতে ব্রাঞ্চ অফিসে গেলে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সৌমেন চৌধুরীর কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চান তারা। কিন্তু সন্তোষজনক কোনও উত্তর না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রাহকরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় আমতলী থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের পক্ষ থেকে সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার, হাঁপানিয়া এলাকার বাসিন্দা বিমল নন্দীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ, বিমল নন্দী ব্রাঞ্চ ম্যানেজারসহ আরও কয়েকজনের ফোন কেটে দিয়ে পরবর্তীতে তাদের নম্বর ব্লক করে দেন। এই ঘটনায় গ্রাহকদের সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানের জন্য এক মাসের সময় চাওয়া হয়। গ্রাহকরাও আপাতত এক মাস সময় দিতে রাজি হয়েছেন বলে জানা যায়।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার বিমল নন্দীর ভূমিকা থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। তাদের আশঙ্কা, ঋণের টাকা পরিশোধের পরেও নথিতে বকেয়া দেখানোর পেছনে কোনও ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এক মাসের মধ্যে তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে এবং কেন ঋণ পরিশোধের পরেও তাদের নামে বকেয়া দেখানো হচ্ছে, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। অন্যথায় তারা পরবর্তী সময়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


















