সোফিয়া, ১১ জুন (আইএএনএস): ভারত ও বুলগেরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করার ওপর জোর দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ভেলিস্লাভা পেট্রোভা-র সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “আজকের আলোচনায় তিনটি প্রধান বিষয় ছিল। প্রথমত, ভারত ও বুলগেরিয়ার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা। দ্বিতীয়ত, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব। তৃতীয়ত, বিশ্বের কল্যাণে আমাদের দুই দেশ একসঙ্গে কী করতে পারে। মূলত এই বিষয়গুলি নিয়েই আমি এখানে এসেছি।”
তিনি বলেন, “ভারত-বুলগেরিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ। এখন আমাদের লক্ষ্য এই সম্পর্ককে আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী রূপ দেওয়া। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও আমাদের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বহু বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান একরকম।”
সফরকালে জয়শঙ্কর বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেব-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উভয় পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং গতিশীলতা (মোবিলিটি) কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগগুলি দুই পক্ষের সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব এখন চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একাধিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, মহামারির অভিজ্ঞতা এবং সন্ত্রাসবাদের পুনরাবৃত্ত হুমকি বিশ্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তিনি বলেন, “ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এটি যুদ্ধের যুগ নয়। সংঘাতের একমাত্র সমাধান সংলাপ ও কূটনীতি। অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় হল সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা এবং বহুমুখীকরণ বাড়ানো। পাশাপাশি সমুদ্রপথে বাণিজ্য যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত বা বিপন্ন না হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।”
বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় ভারত বরাবরই সরব। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য এবং সার নিরাপত্তার বিষয়গুলিকে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও গভীর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। ভারত ও বুলগেরিয়ার ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।”
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের অবস্থান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতা। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও বুলগেরিয়ার মধ্যে মতৈক্য রয়েছে।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলিতে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমঝোতা গড়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।



















