তেহরান, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ও ওমান তেহরানে একাধিক দফায় কারিগরি বৈঠক করেছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি রবিবার জানান, বৈঠকগুলি ছিল “ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী” এবং আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাঘায়ি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার উপ-বিদেশমন্ত্রীর স্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য অভিন্ন নীতি ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে উপকূলবর্তী দুই দেশের সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ওমানের প্রতিনিধি দল শনিবার ইরান ছেড়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে নৌচলাচলের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বাঘায়ি বলেন, ওই জলপথে জাহাজ চলাচলের অবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবেই নৌযান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়।
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরান-ওমানের এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ২৫ জুলাই পর্যন্ত অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করা ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দেশ না মানায় দুটি জাহাজ অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক্স-এ করা এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আরব সাগরে কোমোরোসের পতাকাবাহী এম/টি চারমিনার-এ তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং পরে জাহাজটিকে যাত্রা অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এম/টি লাভিন-কে ২৪ জুলাই ওমান উপসাগরে অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। তাদের অভিযোগ, জাহাজটির ক্রুরা একাধিকবার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে এবং বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে। বর্তমানে জাহাজটি আর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, অঞ্চলে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
______
























