নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আসন সমঝোতা, প্রার্থী সমন্বয় এবং অতিরিক্ত আসনে জমা দেওয়া মনোনয়ন প্রত্যাহারসহ একাধিক বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। জোটের শরিকরা যাতে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেয় এবং ভোট বিভাজন এড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যেই মূলত এই সমন্বয় বৈঠক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজেপির পক্ষে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী তথা দলের শীর্ষ নেতা রতন লাল নাথ এবং মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে তিপরা মথার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেব্বর্মা এবং টিটিএএডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য (সিইএম) রুনিয়েল দেব্বর্মা।
বৈঠক শেষে রতন লাল নাথ জানান, আগের এডিসি নির্বাচনের ফলাফলকে ভিত্তি করেই দুই দলের মধ্যে আসন সমঝোতার সূত্র তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের অভাবে এবার তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে দুই দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
রতন লাল নাথের কথায়, আসলে সময়ের অভাবে আমরা তৃণমূল স্তরে পৌঁছাতে পারিনি। তবে সবাই বুঝতে পেরেছেন আমরা কী চাইছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা শান্তি চাই এবং সেটাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
রাজ্যের উন্নয়ন আরও দ্রুত করতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে উন্নয়ন হয়েছে, শান্তি বজায় থাকলে আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে উন্নয়ন সম্ভব হবে। সেই কারণেই আসন সমঝোতার ভিত্তিতে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু আসনে তিপরা মথার প্রার্থীরা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন, সেই প্রশ্নের জবাবে রতন লাল নাথ বলেন, বিজেপি ও তিপ্রা মথা বর্তমানে রাজ্য সরকারের শরিক। তবে প্রতিটি নির্বাচনে রাজনৈতিক কৌশল একরকম হয় না।
তিনি বলেন, এটি নির্বাচনী কৌশলের বিষয়। প্রতিটি নির্বাচনের নিজস্ব কৌশল থাকে। তাহলে কি আমি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমার দল কী কৌশল নেবে, সেই কৌশল আগে থেকেই সিপিএম বা কংগ্রেসকে জানিয়ে দেব?
বিরোধী দলগুলির মনোনয়ন দাখিল নিয়েও সরব হন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। তাঁর প্রশ্ন, নির্দল প্রার্থীরা যদি মনোনয়ন জমা দিতে পারেন, তাহলে সিপিএম ও কংগ্রেস কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থী দিতে পারল না? তাঁর দাবি, জনসমর্থনের অভাবেই বিরোধী দলগুলি আদিবাসী এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী দিতে পারেনি।
রতন লাল নাথ বলেন, নির্দল প্রার্থীরা যদি মনোনয়ন জমা দিতে পারেন, তাহলে সিপিএম ও কংগ্রেস পারল না কেন? আসলে তাদের জনসমর্থন নেই। আদিবাসী এলাকাগুলিতে তাদের অবস্থান কার্যত শূন্য।
মনোনয়ন দাখিলের সময়সীমা আরও বাড়ানো হলেও বিরোধী দলগুলি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় প্রার্থী দিতে পারত না বলেও দাবি করেন তিনি।
বৈঠকে অতিরিক্ত আসনে জমা দেওয়া মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং জোটের প্রার্থীদের জয়ের লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রচারে সমন্বয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিজেপি ও তিপরা মথার নেতৃত্বের লক্ষ্য, যেখানে যে দলের প্রার্থী জোটের সমর্থন পাচ্ছেন, সেখানে অন্য শরিক দলের প্রার্থী না রেখে ভোট বিভাজন রোধ করা এবং সম্মিলিতভাবে প্রচার চালানো।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি-তিপরা মথার এই সমন্বয় আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















