নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ২৬ জুলাই: বিশালগড় কেন্দ্রীয় জেলে এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম প্রণব পাল। তিনি ক্যাম্পের বাজার এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দেড় মাস আগে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত এনডিপিএস মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল। রবিবার সংশোধনাগারের অভ্যন্তরে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রণব পালের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে রহস্যজনক পরিস্থিতি রয়েছে। তাঁদের দাবি, কী পরিস্থিতিতে, কখন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, একজন সুস্থ বিচারাধীন বন্দির হঠাৎ মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা জানতে চান, মৃত্যুর আগে বন্দি অসুস্থ হয়েছিলেন কি না, হলে তাঁকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, সংশোধনাগারের ভেতরে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ছিলেন এবং ঘটনাটির আগে কোনো অস্বাভাবিকতা ঘটেছিল কি না। এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ উত্তর পাওয়ার স্বার্থে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, বিচারাধীন অবস্থায় কোনো বন্দির মৃত্যু হলে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারাধীন বন্দিদের জীবন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। তাই এমন ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দায়িত্ব নির্ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, প্রণব পালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।



















