নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া। সংস্থার দাবি, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক, যাতে আরও বেশি সংস্থা অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতর এবং নীতি আয়োগ এফসিআই-কে তাদের ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ সাইলো আধুনিকীকরণ প্রকল্পের টেন্ডার থেকে একটি ‘অ্যান্টি-মনোপলি’ বা একচেটিয়া রোধের ধারা বাদ দিতে উৎসাহিত করে। এর ফলে আদানি অ্যাগ্রি লজিস্টিকস লিমিটেড এবং লিপ ইন্ডিয়া ফুড অ্যান্ড লজিস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড দুই দফায় একাধিক প্রকল্পের বরাত পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এই অভিযোগের জবাবে এফসিআই জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আদানি গ্রুপের সংস্থা কিছু প্রকল্প পেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে তারা কোনও প্রকল্প জিততে পারেনি। অন্যদিকে, পরবর্তী পর্যায়গুলিতে অন্যান্য সংস্থাগুলি সফল হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও পক্ষপাত, বিশেষ সুবিধা বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়নি।
এফসিআই-এর বক্তব্য, সাইলো খাতের বিপুল বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই অংশগ্রহণের উপর কোনও কৃত্রিম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। বরং সমস্ত যোগ্য সংস্থাকে স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার দাবি, “টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ, অস্বচ্ছ বা কোনও নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে— এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।”
এফসিআই আরও জানিয়েছে, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য বৈজ্ঞানিক গুদাম ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যেই সাইলো উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সংস্থার মতে, সাইলো খাত একটি উদীয়মান বা ‘সানরাইজ’ সেক্টর, যেখানে ভবিষ্যতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তাই বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ সীমিত করে দিলে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে, উদ্ভাবন ব্যাহত হতে পারে এবং বিনিয়োগও নিরুৎসাহিত হতে পারে।
এফসিআই জানায়, প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি সরকারি নিয়ম মেনে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল। সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একই শর্ত প্রযোজ্য ছিল এবং কোনও সংস্থাকে আলাদা সুবিধা বা শিথিলতা দেওয়া হয়নি।
সংস্থার দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও উদ্ধৃত মূল্যের ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলি বরাদ্দ করা হয়েছে, যা জনস্বার্থে স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, এফসিআই-এর ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ সাইলো আধুনিকীকরণ কর্মসূচির লক্ষ্য হল দেশের খাদ্যশস্য সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আরও দক্ষ করে তোলা।



















