লখনউ, ১৭ জুলাই (আইএএনএস) : রামপুরের মোহাম্মদ আলি জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই শুক্রবার অভিযোগ করেন, রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের বিতর্ক থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অজয় রাই বলেন, সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের প্রতিষ্ঠিত জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার পরিকল্পনা আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই বেশি মনে হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি জনমত অন্যদিকে ঘোরানোর একটি কৌশল।
উল্লেখ্য, বুধবার রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়ে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবন যথাযথ অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। সেই কারণেই সেগুলি ভেঙে ফেলার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য কংগ্রেস দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে অজয় রাই দাবি করেন, ১৭ পাতার এই আদেশ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জারি করা হয়েছে, যা গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে সিংহামখেড়া গ্রামে জওহর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন জেলা পঞ্চায়েতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই এলাকা ২০২৪ সালে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় আসে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অজয় রাই আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি সমস্ত নিয়ম মেনেই গড়ে উঠেছে এবং এটি কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়; সব ধর্মের শিক্ষার্থীরাই এখানে পড়াশোনা করেন।
রাজ্যে স্কুল বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পরিবর্তে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, আজম খানের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলার বদলে উত্তরপ্রদেশ সরকারের উচিত এর পরিচালনার দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অজয় রাই বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের বদলে “বুলডোজারের রাজনীতি” করছে এবং বেছে বেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হচ্ছে।
























